“ক্যা*ন্সার আর জন্ডি’স দুটি মা’রণ রোগ একসঙ্গে শরীরে বেঁধেছিল বাসা!” শেষ জীবনে একাধিক শারীরিক যন্ত্র’ণা, মৃ’ত্যুর সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে টিকে ছিলেন অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়! বাবাকে হারানোর পর, তাঁর কোন কথাকে আঁকড়ে ধরে আজও এগিয়ে চলেছেন মিস জোজো?

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত মুখ ছিলেন মৃণাল মুখোপাধ্যায়। নায়ক, খলনায়ক থেকে শুরু করে চরিত্রাভিনেতা প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন। ১৯৪৫ সালে জামশেদপুরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ছাত্র, পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতি ছিল গভীর টান। মঞ্চ থেকে শুরু করে বড়পর্দা ধাপে ধাপে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা, যা সহজেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিত।

চলচ্চিত্র জীবনে মৃণাল মুখোপাধ্যায় একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর প্রথম ছবি ‘বিলম্বিত লয়’, এরপর ‘শঙ্খবেলা’, ‘ছুটি’, ‘আপনজন’-এর মতো ছবিতে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। বিশেষ করে ‘ছুটি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় অনেকের চোখে জল এনে দিয়েছিল। পরিচালক তপন সিংহের সঙ্গে তাঁর কাজও ছিল অত্যন্ত প্রশংসিত। শুধু বাংলা নয়, তিনি মুম্বইয়ে গিয়ে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় ও গুলজারের মতো পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় জীবনের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।

তবে জীবনের শেষ অধ্যায়টা ছিল ভীষণ কষ্টের। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। মাঝে কিছুটা সুস্থতা ফিরে পেলেও সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শারীরিক দুর্বলতা ক্রমশ বাড়তে থাকে, কিন্তু তবুও অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা একটুও কমেনি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন, যা তাঁর পেশার প্রতি নিষ্ঠার প্রমাণ দেয়।

পরবর্তীতে তাঁর শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ক্যান্সার ও জন্ডিস এই দুই রোগ একসঙ্গে তাঁর শরীরকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের ৭ মে, দক্ষিণ কলকাতার একটি নার্সিংহোমে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

আরও পড়ুনঃ “ভীষণভাবে ঘ্যানঘ্যানে আর প্যানপ্যানে বাংলা গান, শুনলেই বিরক্ত লাগে” বিতর্কিত মন্তব্য, বাংলা ব্যান্ড ‘ভূমি’র আইকন সৌমিত্র রায়ের স্বীকারোক্তি ঘিরে চর্চা! বাংলা গান কেন তাঁর অপছন্দের, কী জানালেন শিল্পী?

ব্যক্তিগত জীবনে মৃণাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন এক স্নেহশীল বাবা। তাঁর তিন সন্তান জোজো, টিনা ও দেবপ্রিয়। তাঁর মেয়ে জোজো, যিনি ‘মিস জোজো’ নামে পরিচিত, বাংলা গানের জগতে এক জনপ্রিয় নাম। বাবার কাছ থেকেই তাঁর গানের অনুপ্রেরণা। বাবার মৃত্যুর পর তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবার রেওয়াজ শুনে বড় হয়েছেন তিনি। মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, বাংলা শিল্পজগতেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।

You cannot copy content of this page