“তিক্ত ভালোবাসায় বেঁচে থাকার থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো” বি’স্ফোরক মন্তব্য তনুশ্রী ভট্টাচার্যের! স্বামী ও সন্তান নিয়ে সুখের সংসার, তবুও এই উপলব্ধি কেন? ব্যক্তিগত জীবনের কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা আনলেন প্রকাশ্যে?

ছোটপর্দার পরিচিত মুখ তনুশ্রী ভট্টাচার্য, যাঁকে এতদিন দর্শক দেখেছেন শান্ত, মিষ্টি ও দেবীসুলভ চরিত্রে তিনি আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকে মা ভবতারিণীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। দীর্ঘদিন সেই ইমেজেই তাঁকে দেখতে অভ্যস্ত ছিল বাংলা টেলিভিশনের দর্শক।

১৩ বছরের অভিনয় জীবনে তনুশ্রী বহু চরিত্রে অভিনয় করলেও, এবার তিনি নিজেই বলছেন এমন চরিত্র আগে কখনও করেননি। ব্যক্তিগত জীবনে মা হওয়ার পর কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন, কিন্তু এবার তিনি ফিরেছেন একেবারে অন্যরকম অবতারে। সান বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘ভালোবাসার রংরুট’-এ তাঁর চরিত্র যেন তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন দিক খুলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ভালোবাসা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তাঁর মতে, তিক্ত ভালোবাসায় আটকে থাকার থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে বাঁচা অনেক বেশি ভালো। তিনি বলেন, “জোর করে কোনো সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো মানে নেই। তাতে নিজের যেমন ভালো থাকে না, তেমনই অপর মানুষটিও কষ্ট পায়।” তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যে বোঝা যায়, সম্পর্ক নিয়ে তিনি কতটা বাস্তববাদী এবং আত্মসম্মানকে কতটা গুরুত্ব দেন।

এই ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র ‘ফুলটুশি’ একজন লোভী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং মানসিকভাবে অস্থির নারী। অল্প বয়সে বিয়ে, স্বামীর সঙ্গে বয়সের ব্যবধান, অপূর্ণ ইচ্ছা সব মিলিয়ে তার জীবনে জমে ওঠে ক্ষোভ আর অভিমান। সেই থেকেই পরিবারের প্রতি তার এক ধরনের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। এমনকি স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও সে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তনুশ্রীর কথায়, এই চরিত্র শুধু নেতিবাচক নয়, বরং জটিল এবং বহুস্তর বিশিষ্ট যেখানে নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অল্প বয়সেই কাঁধে সংসারের ভার, শৈশব টের পাননি কখনও! ভালোবেসে বাড়ি ছেড়েও পাননি সুখ! স্বামীর পর’কীয়া ও অত্যা’চারে নিজেকে শেষ করতে চেয়েও, সন্তানের জন্য দাঁড়িয়েছে ঘুরে! আজ দ্বিতীয় স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে সুখে, মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন সংগ্রামের গল্পে ভিজবে চোখ আপনাদেরও!

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন সামলানো যে সহজ নয়, সেটাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। ছোট মেয়ে, সংসার এবং শুটিং সবকিছু মিলিয়ে সময় ম্যানেজ করা কঠিন হলেও পরিবারের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, মায়ের সাহায্য ছাড়া এই যাত্রা সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর মেয়েও খুব বুঝদার, যা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সব মিলিয়ে, তনুশ্রী ভট্টাচার্যের এই নতুন যাত্রা শুধু একটি চরিত্র বদল নয়, বরং একজন অভিনেত্রীর নিজের সীমানা ভেঙে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প।

You cannot copy content of this page