বাংলা পরিবারে একটা কথা খুব শোনা যায়, শাশুড়ি কখনোই নাকি নিজের মা হতে পারেন না। এই ধারণা অনেক সময় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়। কিন্তু সব গল্প কি একরকম? কিছু সম্পর্ক আছে, যা এই ধারণাকে একেবারে ভেঙে দেয়। ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী গল্প উঠে এল বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মমতা শংকরের পরিবার থেকে, যেখানে শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্ক যেন অন্য এক সংজ্ঞা তৈরি করেছে।
মমতা শংকরের দুই পুত্রবধূ সুদেশনা ও সৌরিতা দুজনেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। একদিকে শংকর পরিবারের ঐতিহ্য, অন্যদিকে সাধারণ সংসার এই দুইয়ের মধ্যে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু শুরু থেকেই নাকি মমতা শংকর তাদের সেই অস্বস্তি টেরই পেতে দেননি। বরং নিজের মতো করেই ধীরে ধীরে তাদের পরিবারে জায়গা করে দিয়েছেন।
বড় বৌমা সুদেশনা ছোটবেলা থেকেই মমতা শংকরের কাছে নাচ শিখতেন। তখন তিনি ছিলেন ‘গুরু’। পরে যখন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়, তখন সেই সম্পর্ক বদলে যায় ‘শাশুড়ি’-তে। কিন্তু সুদেশনার কথায়, এই বদল কখনো অনুভবই করেননি। বরং আগের মতোই মমতা শংকর তাকে আগলে রেখেছেন একজন মায়ের মতো। শুধু নাচ নয়, জীবনের নানা কাজও তিনি হাতে ধরে শিখিয়েছেন।
ছোট বৌমা সৌরিতার বক্তব্য আরও চমকপ্রদ। তার কথায়, বাড়ির ভেতরে মমতা শংকরের কোনও ‘তারকা’ সত্তা নেই। বরং তিনি সবচেয়ে সহজ-সরল মানুষ। বড় বড় অনুষ্ঠানে পর্যন্ত তিনি সাদামাটা শাখাপলা পরেই যান। এমনকি বাড়ির লোকেরা সাজতে বললেও তিনি বলেন, “শাখাপলাই আমার সবচেয়ে বড় অলংকার।” এই সরলতা থেকেই নাকি বৌমাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ “কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ছে!” পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার দাবি, ‘এরাও মানুষ’ ছবি ঘিরে জিতুর ক্ষোভের পরেই বিতর্কে যোগ নতুন অধ্যায়! লেখিকা অপালার ‘চুরি’র অভিযোগে সরগরম টলিপাড়া! ঠিক কী ঘটেছে?
সবশেষে, দুই বৌমার এক কথাই স্পষ্ট “শাশুড়ি কখনো মা হতে পারে না” এই ধারণা তাদের জীবনে সম্পূর্ণ ভুল। তারা মনে করেন, সম্পর্কটা কেমন হবে, তা নির্ভর করে মানুষটার উপর। মমতা শংকরের ক্ষেত্রে তারা শাশুড়ি নয়, একজন মাকেই পেয়েছেন। আর এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই আজ অনেকের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।






