“তুমি ‘দু পয়সার শিল্পী’, তোমার মৃ’ত্যুতে আধ বেলা শুটিং বন্ধ থাকবে কেন?” “ভয় পাও, চুপ না থাকলে ‘ব্যান’ হয়ে যাবে” পঞ্চভূতে বিলীন রাহুল অরুণোদয়, অকাল মৃ’ত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা! শিল্পীর অধিকার ও সম্মান নিয়ে সরব সুদীপ্তা চক্রবর্তী!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক মৃ’ত্যু টলিউডকে গভীর শোকে ডুবিয়েছে। মাত্র ৪২ বছর বয়সী রাহুল, দীঘা-ওড়িশার সীমান্তে অবস্থিত তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যান বলে খবর পাওয়া যায় রবিবার। শুটিং ইউনিটের তরফে জানানো হয়েছিল দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, এক ঘন্টার মতো জলে থাকার কারণে রাহুলের মৃ’ত্যু হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই নেটপাড়া থেকে টলিউডেও এক ধরনের বিস্ময় আর শোকের সমন্বয় করে সরগরম।

শোকগ্রস্ত সহকর্মীরা এখনও এই ঘটনার বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না। শ্বেতা সহ অন্যান্য অভিনেত্রীরা প্রকাশ্যে বলেছেন, উদ্ধার হওয়ার পরেও রাহুল ঠিকই সক্রিয় ছিলেন, তাঁর পরিণত আচরণ এবং সতর্কতা দেখে কেউ ভাবতেই পারছেন না যে তিনি এমন ঝুঁকি নিয়েছিলেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “সমুদ্র উত্তাল অবস্থায় রাহুল এই ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে এটা কি সম্ভব, নাকি নিরাপত্তার অভাব এখানে দায়ী?” গতকাল সুদীপ্তা চক্রবর্তী ফেসবুকে একটি পোস্ট করে এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেন।

তিনি পোস্টে সরাসরি আবেদন করেছিলেন, যে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃ’ত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য হিসেবে সহকর্মীর মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবীও করেছিলেন। পোস্টে তিনি ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করার পাশাপাশি জনসমক্ষে এই দাবি তুলে ধরেছিলেন। যদিও কাল সহকর্মী এবং পরিচিতদের উপস্থিতিতে শে’ষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের, তবে সন্তুষ্ট নয় টলিউডের একাংশ!

আজ সকাল হতেই এই নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুদীপ্তা। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? নজরুল মঞ্চে বা ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ভিড় বাড়াতে হবে বলে যখন তখন শুটিং বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যায়, কিন্তু একজন তরুণ অভিনেতার শুটিং চলাকালীনই অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে আধ বেলা শুটিং বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশ কোথাও থেকে আসে না।” এই বক্তব্যে যেন শিল্পী জীবন এবং নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর অসন্তোষ আরও প্রকাশ করেছেন।

সুদীপ্তা আরও বলেছেন, “নিজের ভ্রাতৃসম সহশিল্পীকে শেষ দেখা দেখতে দিতে গেলে আধ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া যায় না, কিন্তু সরকারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বা অন্যান্য ভিড়-জমায়েত শুটিং এ সব থামানো যায়।” এখানে তিনি স্পষ্ট করছেন যে শিল্পীদের মৃ’ত্যুর মতো গুরুতর ঘটনা হলেও শুটিং ফ্লোরে যথাযথ মানবিক সম্মান প্রদর্শন করা হয় না! তিনি তীক্ষ্ণভাবে শিল্পী সমাজের বাস্তবতাকেও তুলে ধরেছেন, লিখেছেন, “তুমি ‘শিল্পী’। তুমি রিক্সা বা অটো চালাও না, নিদেনপক্ষে সবজি ও বেচো না যে তোমার ইউনিয়ন তোমার মৃ’ত্যুতে দোকান বন্ধ রাখবে।

তুমি ‘দু পয়সার শিল্পী’ মাত্র। কথা বোলোনা বেশি। যাও গিয়ে নাচো, গান গাও, অভিনয় কর।” এই বক্তব্যে সুদীপ্তা শিল্পীদের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার অভাবের প্রসঙ্গে তীব্র তিরস্কার করেছেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, “তুমি ভয় পাও। মনে রেখো তোমার পিছনেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আরো অনেক অনেক শিল্পী, তোমাকে ‘রিপ্লেস’ করার জন্য। তারা সবাই ভালো মুখস্থ করতে পারে, তাই তারা ও সবাই ‘শিল্পী’। হাজার হাজার ডক্টর হাজরার মত হাজার হাজার শিল্পী।” এই বক্তব্যে তিনি টলিউডের প্রতিযোগিতামূলক এবং একপ্রকার হুমকিপূর্ণ পরিবেশকে তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি দায়িত্ব নিতে পারছি না…স্পটেই ছিলাম না, ও খুব পারফেকশানিস্ট” শ্যুটিং স্পটে কী ঘটেছিল, ময়নাতদন্তে মিলছে না! রাহুলের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা, দায় এড়াচ্ছেন লীনা? কেন অভিনেতার শে’ষকৃত্যে দেখা গেল না ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’র কাউকে?

শেষে সুদীপ্তা বলেন, “ভুলেও জানতে চেয়োনা কেন উড়ছো, কে ওড়াচ্ছে, লাটাই টা কার হাতে। জেনে ফেললেও চুপ থেকো, নাহলে ‘ব্যান্’ হয়ে যাবে। তাই তুমি চুপ করে উড়তে থাকো, উড়ে উড়ে দূরে চলে যাও, অনেক দূরে, যেখানে তোমাকে আর ছোঁওয়া যাবে না।” এই কথাগুলোতেই শিল্পীদের শৃঙ্খলা, ভয় এবং স্বল্প স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ স্পষ্ট, যা শিল্পীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও মানবিক মর্যাদার গুরুত্বের ওপর একটি কঠোর আঘাত হিসেবেই ধরা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

You cannot copy content of this page