মমতা শঙ্কর, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক বহুমুখী প্রতিভা। অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী দুই পরিচয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত এই শিল্পীর সাফল্যের ঝুলি যেমন ভরা, তেমনই তাঁর স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য তিনি প্রায়শই উঠে আসেন বিতর্কের কেন্দ্রে। নিজের মতামত প্রকাশে কখনও পিছপা হন না তিনি, আর সেই কারণেই প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও তাঁর নিত্যসঙ্গী।
মমতা শঙ্কর বরাবরই সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে ভালোবাসেন। নারী-পুরুষ সমতা, সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা শিল্পজগতের বাস্তবতা সব ক্ষেত্রেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ও সরাসরি। অনেক সময় তাঁর মন্তব্য সাধারণ মানুষের চিন্তার সঙ্গে মেলে, আবার কখনও তা বিতর্ক উস্কে দেয়। তবুও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং বিশ্বাস করেন, সত্যি কথা বলা প্রয়োজন, তা যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘মি টু’ নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি। মমতা শঙ্করের মতে, অনৈতিক ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরুষদের দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, অনেক সময় মহিলারাও কিছু সুযোগ পাওয়ার আশায় নিজেরাই কিছুটা ছাড় দেন। তাঁর বক্তব্য, “সব ক্ষেত্রে না হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেয়েদের দিক থেকেও ভুল হয়। কিছু পাওয়ার আশায় আমরা হয়তো নিজেকে ছেড়ে দিই, অন্যজনকে এগোতে দিই। কিন্তু পরে কাজ না হলে অভিযোগ ওঠে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, খারাপ মানুষ শুধুমাত্র পুরুষ বা নারী, এই বিভাজনে বিচার করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, “খারাপটা খারাপই, ভালোটা ভালোই এর সঙ্গে লিঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই ধরনের অভিযোগ শুধুমাত্র ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই সীমাবদ্ধ বলে ধরা হয়। তাঁর দাবি, কর্পোরেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু সব সময় তা সামনে আসে না। ব্যক্তিগত বুদ্ধি ও সচেতনতার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলেও মত দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে গলদ! কিছু একটা ঘটলেই সেই কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে আসে!” রাহুলের মৃ’ত্যুতে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী সোহিনী সরকার!
তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য ‘মি টু’ আন্দোলনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখায় এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি অন্যায়। অন্যদিকে, কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যকে বাস্তববাদী বলেও সমর্থন করছেন। সব মিলিয়ে আবারও স্পষ্ট মমতা শঙ্কর নিজের অবস্থান থেকে সরেন না, আর তাঁর মন্তব্য সমাজে আলোচনার ঝড় তুলতে বাধ্য।






