আজ বাঙালির মননে চিরন্তন মহানায়িকার জন্মদিন। সুচিত্রা সেনের (Mahanayika Suchita Sen) জন্মবার্ষিকীতে উঠে এল মা-মেয়ের এক স্মৃতিমাখা মুহূর্ত, যা অনেকেরই চোখে জল এনে দিতে পারে। বালিগঞ্জের সেই পুরনো ভিক্টোরীয় বাড়ির বৈঠকখানা, দেওয়াল জুড়ে কালজয়ী পেন্টিং আর এক কোণে সাদা-কালো ছবি দিয়ে সাজানো, এখানে এক সময় মা ও মেয়ে দুজনেই থাকতেন। মুনমুন সেন (Moon Moon Sen) তার মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “দেখো, আজ আমি মায়ের চুড়ি পরেছি।” এই কথার মধ্য দিয়েই যেন মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা ফুটে ওঠে। সেই চুড়ি যে শুধু অলংকার নয়, বরং প্রাচীন স্মৃতির এক টুকরো।
মুনমুন সেন তার মায়ের শাড়ি এবং সাজগোজ নিয়ে বেশ কিছু মিষ্টি স্মৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “মা নিজেই ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির জন্য শাড়ি কিনতে গিয়েছিলেন। আমি তার সঙ্গী ছিলাম। মা যখন শাড়ির ডিজাইন নিয়ে ভাবতেন, তখন আমি খুব ভাল করেই জানতাম কী চাইছেন মা।” মুনমুন আরও বলেন, তার মায়ের শাড়ি ও ব্লাউজ ডিজাইন করার সময়, তিনি বুঝে গিয়েছিলেন মায়ের পছন্দের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ। মায়ের সব কাজের জন্য তিনি ছিলেন এক সঙ্গী এবং সহকর্মী।
মুনমুন সেন তার ছোটবেলার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আরও জানান, “মা শুটিং শেষে বাড়ি ফিরলে, আমি ঘরের মেঝেতে চালগুঁড়োর আলপনা দিয়ে রাখতাম। মা তা দেখে খুব খুশি হতেন।” এমন অনেক স্মৃতি মুনমুনের মনে জ্বলজ্বল করে, যেখানে ছোটবেলা এবং তার মা সুচিত্রা সেনের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ের অনুভূতিগুলো যেন আজও জীবন্ত হয়ে রয়েছে মুনমুনের কথায়।
বিষয়টি এমন যে, সুচিত্রা সেন একাধারে রূপোলি পর্দার এক অসাধারণ তারকা, আবার অন্যদিকে এক মায়ের দায়িত্বও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছেন। মুনমুন বলেন, “মা কখনোই তার কাজ আর সংসারের মধ্যে ভারসাম্য হারাননি। সেটা সত্যিই অনেক কঠিন ছিল, তবে মা সবসময় এটি সুন্দরভাবে করে গেছেন।” এই কথার মধ্যে মুনমুন তার মায়ের এক অসাধারণ চরিত্রের কথা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের মনে একটি গভীর প্রভাব রেখে যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার মতো ভালো প্রযোজনা সংস্থা হয় না! কিছু না বললে নিজেকে দোষী মনে হচ্ছিল’ রাহুলের মৃ’ত্যুতে লীনার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা ভিভান ঘোষ
সুচিত্রা সেনের জন্মদিনে, মুনমুন তার মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই অমূল্য মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলছেন। তিনি স্মৃতিচারণা করেন, “একটি ছবিতে মা বিয়ের কনের সাজে ছিলেন, তখন আমি তাঁর কপালে চন্দন পরিয়েছিলাম।” মুনমুনের কথায়, মনে হয় যেন মা-মেয়ে একসাথে জীবনটাকে উপভোগ করেছেন, একে অপরের সঙ্গেই। সেই মুহূর্তগুলো মনে করে মুনমুন আরও বললেন, “আমার মায়ের সঙ্গে এভাবেই কাটানো সেরা সময়গুলো ছিল।”






