টলিউডের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ বন্ধ হওয়ার পেছনে রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু এবং তার তদন্তের বিষয়টি রয়েছে। সম্প্রতি, রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তার সতীর্থরা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অভিনেতা জয়জিৎ, নাম না করে যেন রাজা বা ভিভানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “অনেক সময় তো ধারাবাহিক ৭ দিনেও বন্ধ হয়ে যায়৷ সতীর্থ অর্থাৎ রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুতেও নাকি সেই সব মানুষেরা অতটা শোক পাননি যতটা নিজেদের কাজ বন্ধ হওয়ায় হয়েছে৷” এর মধ্যে রাজা মধুবনী এবং অন্যান্য টেকনিশিয়ানরা এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
তারা দাবি করেছেন, “কেন কাজ বন্ধ হবে, যদি দোষী কেউ না হয়?” রাহুলের মৃত্যুর পর তার সতীর্থরা একসাথে বসে শুটিং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ও ভিভান ঘোষসহ অনেকেই শুটিং বন্ধ হওয়ার বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সিরিয়াল বন্ধ হওয়ার ফলে অনেক মানুষের জীবিকা বিপদে পড়েছে, এবং কর্মসংস্থানের সমস্যা হচ্ছে। তারা চান, তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই প্রযোজনা সংস্থাগুলোর সাথে কাজ পুনরায় শুরু হোক।
তবে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন সবাই। টলিউডের বিভিন্ন কলাকুশলী, বিশেষ করে টেকনিশিয়ানরা, এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা জানাচ্ছেন, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবনে সংকট তৈরি হয়েছে। রাজা মধুবনী যেমন বলছেন, “আমি চিন্তিত নই, কারণ আমি অনেক দিন শুটিং করিনি, কিন্তু যারা টেকনিশিয়ান, তাদের জন্য আমি উদ্বিগ্ন। তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।” তার মতে, টলিউডের বেশ কিছু মানুষ যারা শুটিংয়ের সাথে জড়িত, তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, যাদের আয়ের ১৫-২০% টলিউডের কাজ থেকে আসে, তাদের জন্য চিন্তা করা দরকার।
এদিকে, ৭ এপ্রিল টলিউডে রাহুল অরুনোদয়ের মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কলাকুশলীরা যে দুই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাদের সাথে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। এই মুহূর্তে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত ওই সংস্থার সাথে কেউ কাজ করবে না। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি বলেছেন, “আমরা ওই প্রযোজনা সংস্থার সাথে কাজ করব না যতক্ষণ না তদন্ত শেষ হবে আর জানা যাবে কীভাবে আমাদের রাহুলকে হারাতে হলো।”
আরও পড়ুনঃ প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুদীপ-ভিভানদের জরুরি বৈঠক! ইন্ডাস্ট্রিতে বয়কটের সিদ্ধান্ত মাজিক মোমেন্টসকে, বন্ধ ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ ও ‘ভোলে বাবা পার করেগা’! রাহুলের মৃ’ত্যুর তদন্তের কারণে বেকার হবেন আরও শতাধিক শিল্পী?
রাহুল অরুনোদয়ের মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মৃত্যুর কারণ জানতে চাচ্ছেন তারা, কারণ শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। ২৯ মার্চ, রাহুল মৃত্যুবরণ করেছিলেন যখন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। রাহুলের মৃত্যু নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার প্রতিক্রিয়া অনেকেই ভালোভাবে নেননি, বিশেষ করে তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর শুটিং আবার শুরু হওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় এবং তালসারিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং সবাই এই ঘটনায় প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছেন।






