গত এক বছর ধরে টলিউডে একাধিক শিল্পী ও পরিচালককে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে রাহুলের মৃত্যু এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে শিল্পী ও পরিচালকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৭ এপ্রিল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, দেব জানিয়ে দেন যে, ‘বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ শিল্পী ও পরিচালকদের কাজ ফিরে আনবেন।’ এর পরেই প্রসেনজিৎ নিজেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন এবং সকলের সঙ্গে সুখবরটি শেয়ার করেন।
ব্যান হওয়া শিল্পীদের মধ্যে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নাম অনেকেই উল্লেখ করেন। তবে এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, ‘অনির্বাণ আমার বিষয় নয়।’ তার মতে, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় হল টেকনিশিয়ানদের, যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজের অভাবে বাড়িতে বসে আছেন। টেলিভিশনে চ্যানেলগুলি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, ধারাবাহিকগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এবং সিনেমার পরিমাণও কমছে। এর মধ্যে শিল্পী ও পরিচালকদের মধ্যে আরো বিভাজন তৈরি হলে, কাজের পরিবেশ কেমন হবে, সে প্রশ্ন তোলেন দেব।
দেব আরও বলেন, ‘অনেক সময় বাঙালিকে কাঁকড়ার জাত বলে অভিহিত করা হয়, আর এই ধারণা পালটে দিতে হবে।’ তার মতে, শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের সব ধরনের সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গে কাজে ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু অনির্বাণ নয়, যারা এই নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন, তাদের সকলকে ফিরিয়ে আনা উচিত, যেন তারা সম্মানসহ কাজ করতে পারেন। তিনি যোগ করেন, ‘ব্যান শব্দটাকেই আমাদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে।’
এখনকার পরিস্থিতিতে, দেব মনে করেন যে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। ব্যান করার বদলে, যোগ্য শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানদের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা তাদের কাজের মাধ্যমে নিজের স্থান তৈরি করতে পারে। দেবের মতে, যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কর্মহীনতার কারণে অন্য কোনো শিল্পী বা টেকনিশিয়ান আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেবেন, যা আসলে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুনঃ “বিপদের সময়ই চেনা যায় আসল মানুষ!” রাহুলের মৃ’ত্যুতে সবাই ব্যস্ত দোষারোপ আর দ্বন্দ্বে, টলিউডের উত্তাল পরিস্থিতিতে অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত! নেতিবাচক মন্তব্যের ভিড়েও হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা?
সবশেষে, দেব সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু যদি কেউ কাজ না পেয়ে জীবনের ইতি টানেন, তা হলে কী হবে? আমরা যদি সবাই এক হয়ে কাজ করি, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি সম্ভব হবে।’ তার এই মন্তব্যে তিনি আরও জানান, তাদের লক্ষ্য হল সকলকে একত্রিত করা এবং সবার জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা।






