“এবার আমরাও মুড়ি খেতে শুরু করব” আগরপাড়া স্টেশনে ঝালমুড়ি বিক্রি মদন মিত্রের, সঙ্গী হলেন অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য! মোদীর ‘ঝালমুড়ি নাটক’-এর পাল্টা দিতে গিয়ে ভাইরাল, বাংলার শাসকদলের কীর্তি-কলাপ!

সোমবার সকালে আগরপাড়া স্টেশনে এক বিশেষ দৃশ্য দেখা গেল। তৃণমূল নেতা মদন মিত্র ঝালমুড়ি বিক্রি করতে দেখা গেলেন, এবং এই কাজে তার সঙ্গী ছিলেন টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য। এই দৃশ্যের সাথে সঙ্গে সঙ্গে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, যা বেশ কিছুদিন ধরে রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছিল। মোদী যখন ঝাড়গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন, তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মঞ্চে নেমে তার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেন।

মোদী যখন ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূলের নেতারা একে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেন। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র সরাসরি মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “যখনই উনি এই ধরনের নাটক করবেন, আমরাও মুড়ির দোকানে গিয়ে মুড়ি খেতে শুরু করব।” মদন আরও বলেন, মোদী ২০১৪ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২ কোটি চাকরি, ১৫ লাখ টাকা এবং ব্যাঙ্কে ৩ হাজার টাকা করে জমা দেবেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি কোথায়? মোদী যখন ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, তখন তার মুখে নতুন প্রতিশ্রুতির কথা শোনা যায়, যা আসলে পুরনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই নয়।

রাজনৈতিক মহলে একে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মদন মিত্রের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মোদীর এই ‘ঝালমুড়ি খাওয়ার’ ঘটনা নিয়ে চরম কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, এটা শুধুই নির্বাচনী প্রচারের অংশ। তারা প্রশ্ন তুলেছে, যদি মোদী সত্যিই সাধারণ মানুষের মতন জীবনযাপন করতে চান, তবে কেন তার সরকারের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হয়নি? তৃণমূল নেতারা আরও বলেন, বিজেপি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট পাওয়ার জন্য নানা কৃত্রিম ছবি তৈরি করছে, যা জনগণের চোখে ধোঁকা ছাড়া কিছু নয়।

অন্যদিকে, শ্রীতমা ভট্টাচার্য, যিনি বর্তমানে কামারহাটি পুরসভার কাউন্সিলর, তার উপস্থিতি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। শ্রীতমা দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত, এবং ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন এবং টেলিভিশন শো সঞ্চালনা করেছেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে আসার পর থেকে অনেক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। জনগণের কাছে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত।” শ্রীতমার উপস্থিতি এই রাজনৈতিক নাটকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুনঃ “আপনাদের প্রিয় ‘সুপারস্টার’কে বলুন…২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি না মেটে, পুরো ইন্ডাস্ট্রি ওনার বিপক্ষে দাঁড়াবে” রানা সরকারের হুঁশিয়ারি! বাধ্যতামূলক সমঝোতার দাবি, না মানলে রিলিজ হবে না জিতের কোনও ছবি! টলিউডে ফের বড় ঝড়ের আশঙ্কা?

এদিকে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাটি এক নতুন মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের প্রতিবাদ যতই তীব্র হোক, মোদী তার রাজনৈতিক প্রচারে পিছিয়ে থাকেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল, যা জনতার সঙ্গে তার সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার জন্য করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হল, এই বিতর্কের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

You cannot copy content of this page