“আমি কোনও দক্ষিণপন্থী, হিন্দুত্ববাদী বা অসহিষ্ণু দলের সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চাই না” টাকা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনও সম্পর্ক নেই, নির্বাচনের আবহে অকপট ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়! বাংলার আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন, কী জানালেন অভিনেতা?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনেক তারকা ভোটারদের মতামত শোনা যাচ্ছে। তার মধ্যে অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচিত। সম্প্রতি তিনি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান, প্রার্থী বা দলের গুরুত্ব, বিধায়কদের প্রশিক্ষণ – এসব নানা বিষয় নিয়ে তিনি তার মতামত জানান। তবে তার সবচেয়ে বড় কথা ছিল, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার উদ্বেগ। তিনি বলেন, কিছু বিষয় আছে যেগুলি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা উচিত, এবং দেশের ভবিষ্যত সুদৃঢ় করতে হলে সেগুলির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান, এই প্রশ্নের উত্তরে ধৃতিমান জানান, তিনি গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভোটার হিসেবে তার গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে এবং তিনি এই অধিকার রক্ষা করতে চান। তবে, তিনি এমন কিছু নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান না, যারা দক্ষিণপন্থী, হিন্দুত্ববাদী বা অসহিষ্ণু মনোভাব পোষণ করেন। এ ধরনের নেতাদের তিনি মোটেও সমর্থন করেন না। তার মতে, দেশের গণতন্ত্র এবং সমাজের সাম্য বজায় রাখতে এমন নেতাদের চেয়ে অভিজ্ঞানসম্পন্ন, প্রগতিশীল এবং সহিষ্ণু মনোভাবাপন্ন নেতাদের প্রয়োজন।

ধৃতিমান আরও বলেন, প্রার্থী বা দল দেখে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হলে দলকেও দেখতে হয়। তাই দল এবং প্রার্থী দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যখন তার কাছে প্রশ্ন করা হয়, প্রার্থীদের জন্য যদি কোন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকত, তা হলে কেমন হতো, তিনি সাড়া দেন, “এমন হলে আদর্শ ব্যবস্থা হত। তবে এই পরিস্থিতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, কারণ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০০ আসন রয়েছে এবং প্রায় ১০০০ প্রার্থী দাঁড়াবেন। সবাই যে যোগ্য হবে, তা আশা করা যায় না।” তবুও, বিধায়কের প্রশিক্ষণের প্রতি তার সমর্থন ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে কী করা যেতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ধৃতিমান বলেন, “প্রার্থীরা এক দল ছেড়ে অন্য দলে চলে যাওয়া – এই প্রবণতা বন্ধ হলে দুর্নীতি অনেকটা কমানো যেতে পারে।” তার মতে, দলবদলের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগ করতে হবে। “আইন মানা উচিত এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই কথার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ “আগে অভিজ্ঞরা রাজনীতি করতেন, এখন দেখি সব অভিনেতারাই রাজনীতিতে, কী যোগ্যতা আছে এদের?” “আদর্শের জায়গা নেই, ক্ষমতা ও টাকার পিছনে ছুটছে” নিরীহ মানুষের প্রাণ যায় যাক, ভোটটা ঠিক হতে হবে! সত্তরের দশক থেকে আজকের অস্থির পরিবেশ, ভোটের পরিবর্তিত চিত্র নিয়ে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা!

অবশেষে, তারকা ভোটারের ভূমিকা এবং ভাতার রাজনীতি সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। ধৃতিমান বলেন, “তারকারা ভোট টানার কোনো শর্টকাট নয়। যিনি জনসাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তবে শুধু তার পরিচিতির কারণে তাকে যোগ্য বলে মনে করা উচিত নয়।” তার মতে, গণতন্ত্রে যোগ্যতার মূল্যায়ন হওয়া উচিত, এবং ভোট প্রচারে ভাতার রাজনীতির স্থান নেই। তিনি জানান, “ভাতার রাজনীতি সমাজের উন্নতি করতে পারে না। জনগণের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, এটি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের সঙ্গে খেলা।”

You cannot copy content of this page