বাংলা বিনোদন জগতে এক পরিচিত নাম ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। বাচিকশিল্পী হিসেবে যেমন তিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন, তেমনই ছোটপর্দা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয়ের মাধ্যমেও নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। বহু বছর ধরে মঞ্চ, আবৃত্তি এবং ধারাবাহিকে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয়। শান্ত, মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং কণ্ঠের জাদু, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজের অভিনয়জীবন। শুক্রবার ভোর ৬টা ১৫ নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেদিন সকালে হঠাৎই তাঁর শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়। তড়িঘড়ি করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে টলিপাড়ায় এবং তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে। পরিবারে স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত এবং একমাত্র মেয়ে রয়েছেন তাঁর। মেয়ে থাকেন বাইপাস সংলগ্ন এলাকায়, আর অভিনেতা স্ত্রীকে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি আবাসনে থাকতেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তির আসর এবং ধারাবাহিকে অংশ নিয়েছেন। সহ-অভিনেত্রী সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বিপ্লববাবুর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং একসঙ্গে ‘যোগমায়া’ ধারাবাহিকেও কাজ করেছিলেন তাঁরা। অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে বাবার অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে তাঁর বাবাকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
কখনও বাড়ি, কখনও হাসপাতাল এই যাতায়াতের মধ্যেই ধীরে ধীরে এক সুস্থ মানুষকে ভেঙে পড়তে দেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “একটা সময় মনে হত বাবার শরীরটা আছে, কিন্তু মানুষটা যেন আর আগের মতো নেই।” দীর্ঘ অসুস্থতা বাবার মানসিক শক্তিকেও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে জানান তিনি। শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, বাবার এই কষ্টের শেষ হওয়াটাই হয়তো ঈশ্বরের আশীর্বাদ। “বাবা যেখানে আছেন, সেখানে হয়তো অনেক ভালো আছেন, আর এই কষ্টটা আর পাচ্ছেন না।”
আরও পড়ুনঃ “দিদি যেখানে, আমি সেখানে…এতদিন আমি যেটা পেয়েছি, সেটা দিদির সরকারের কাছ থেকেই” এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভোট প্রচারে গায়িকা ইমন চক্রবর্তী! ট্রোলারদের বললেন ডোন্ট কেয়ার!
এই বিশ্বাসেই নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন তিনি। পরিবারের কাছে যেমন এক বড় শূন্যতা তৈরি হল, তেমনই বাংলা বিনোদন জগতও হারাল এক নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীকে। অনেকেই জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় তাঁকে যেন একেবারেই চেনা যাচ্ছিল না। যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁরা জানিয়েছেন সেই অবস্থায় তাঁর চোখ দু’টো যেন পুরোপুরি অন্ধ ছিল না, আর সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়ে পড়েন। তাঁর কাজ এবং স্মৃতি দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।






“ঠাঠাপোড়া গরমে শাল আর সানগ্লাস পরে নৌকায় ছবি তুলছে গজেন্দ্র” নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গাবিহারকে ‘প্র্যাকটিকালি ড্রামা’ বলে কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাল’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে ঋত্বিক চক্রবর্তী! সমাজ মাধ্যমে অভিনেতাকে ঘিরে নিন্দার ঝড়!