প্রথম দেখাতেই বিতর্ক, তারপর লাগাতার কটাক্ষ! স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকেই নেটমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তালসারির সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় রাহুলের মৃত্যু সংবাদ সামনে আসতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে টলিপাড়া। কিন্তু শোকের মাঝেই অভিনেত্রীর আচরণ ও উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকেই। শেষকৃত্যের দিন তাঁর পোশাক, মুখের অভিব্যক্তি, সবকিছু নিয়েই শুরু হয় আলোচনা।
এই পরিস্থিতিতে চুপ না থেকে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রিয়াঙ্কা। ২৯ মার্চের সেই দুর্ঘটনার পর থেকে প্রিয়াঙ্কার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সোশ্যাল মিডিয়ার নজরে ছিল। শেষকৃত্যে তাঁকে কুর্তা ও ডেনিমে দেখা যায়, যা নিয়েই প্রথমে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর আরও একধাপ এগিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে কাঁদতে দেখা গেল না। এমনকি এক মুহূর্তে তাঁর মুখে হালকা হাসি দেখেও নানা রকম মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধরে নেন, শোক প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো ধরন না মেনে চলায় তিনি নাকি ‘নির্মম’।
এই ধরনের মন্তব্যে ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশন। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই কাজে ফেরা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে অভিনেত্রীর দিকে। কেউ কেউ সরাসরি লিখেছেন, “স্বামী হারা একজন কীভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরতে পারে?” যদিও বাস্তবে প্রিয়াঙ্কা তাঁর পেশাগত দায়িত্বে ফিরেছেন নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’-র প্রচারের জন্য। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও কাজের জায়গায় ফিরে আসা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও, অভিনেত্রীর কাছে তা ছিল দায়িত্বের অংশ।
এই সমস্ত কটাক্ষের জবাবে প্রিয়াঙ্কা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি চেষ্টা করি সব পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই ভালোটা খুঁজে নেওয়ার। আমার মনে হয় যে, যখনই এরকম কোনো পরিস্থিতি এসছে, পাঁচজন হয়তো নেগেটিভ কথা বলেছে, কিন্তু ৫০ জন পাশে থেকেছেন এবং ভালো কথা বলেছেন। সেই পাঁচ জনকে আমার গুরুত্ব না দিলেও চলবে। যে ৫০জন পাশে থেকেছে, তাঁরাই কিন্তু আমাদের হয়ে লড়াইগুলো করে।” তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, তিনি নেতিবাচকতার চেয়ে ইতিবাচকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও যোগ করে বলেন, “আসলে অনেকেই বাজে কথা বলে, কারণ তারা অ্যাটেনশন চায়। আর এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভালো রেসপন্স হতে পারে। যেমন তোমার চারপাশে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে তুমি তোমার কষ্টের কথা ভাগ করে নাও, মন হালকা করো। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভিটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াটা ইম্পর্টেন্ট। এরা তোমার অ্য়াটেনশন ডিজার্ভ করে। যারা তোমার জন্য লড়াই করছে। কেন আমি নেতিবাচক কথাকে আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব!” তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার, তিনি ট্রোলিংকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো করে এগোতে চান।
আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে বড় ধাক্কা! তালিকায় নির্বাচন ও আইপিএলের দ্বৈত প্রভাব! শীর্ষস্থানে টিকে ‘পরিণীতা’, ফের পিছিয়ে পড়ল ‘তারে ধরি ধরি’! ‘জোয়ার ভাঁটা’, ‘পরশুরাম’-এর কী হাল? দুই চ্যানেলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে কে?
উল্লেখ্য, রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের পথও ছিল উত্থান-পতনে ভরা। ২০০৮ সালে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের সম্পর্কের শুরু, পরে বিয়ে এবং সন্তানের জন্ম। তবে কয়েক বছর পর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় এবং বিচ্ছেদের দিকেও এগোয়। যদিও শেষ পর্যন্ত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সেই সম্পর্কই আবার নতুন করে গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। তাই এই আকস্মিক মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি সম্পর্ককেও অসমাপ্ত রেখে গেল— যার প্রতিধ্বনি আজও অনুভব করছেন প্রিয়াঙ্কা।






