বৃষ্টি নামলেই মন কাঁদে! “বড় হতে চেয়েছিলাম, এখন আফসোস…” মেঘলা দিনে আবেগঘন শ্রুতি দাস! স্বর্ণেন্দুর প্রেম থেকে বাবার সাইকেল ও কাটোয়ার স্মৃতি নিয়ে, জীবনের কোন না বলা কষ্ট ভাগ করলেন অভিনেত্রী?

মেঘে ঢাকা আকাশ, ঝমঝমিয়ে নামা বৃষ্টি আর ভিজে রাস্তা অনেকের কাছেই আনন্দের কারণ। কিন্তু অভিনেত্রী শ্রুতি দাসের কাছে বৃষ্টি মানেই শুধু আবহাওয়া নয়, বরং পুরনো দিনের দরজা খুলে যাওয়া। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের মনের বহু জমে থাকা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে ছোটবেলার নির্ভার দিন, পরিবারের স্নেহ, প্রেমের শুরু আর বড় হয়ে ওঠার না বলা কষ্ট। শ্রুতির এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারকাদের জীবনের আড়ালেও এমন সাধারণ আবেগ লুকিয়ে থাকে।

সহজ ভাষায় লেখা এই পোস্টে শ্রুতি যেন নিজের মনটাই খুলে দিয়েছেন। তাই বৃষ্টির দিনের সেই লেখা এখন অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে। শ্রুতি জানিয়েছেন, বৃষ্টি নামলেই তিনি ফিরে যান কাটোয়ার শৈশবের দিনে। মনে পড়ে বাড়ির খোলা ছাদ, যেখানে ছোটবেলায় নির্ভয়ে ভিজতেন তিনি। মনে পড়ে মায়ের হাত ধরে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটা, নাচের স্কুল থেকে ফেরা, আর বাবার সাইকেলের পিছনে বসে জল ছিটে লাগার আনন্দ। ছোট ছোট সেই মুহূর্তগুলো আজও তাঁর মনে একেবারে জীবন্ত। সময় অনেক এগিয়ে গেলেও সেই স্মৃতির রং ফিকে হয়নি।

বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি করে মনে পড়ে যায়। এই সাধারণ ঘটনাগুলোই আজ তাঁর কাছে অমূল্য হয়ে উঠেছে। কারণ ব্যস্ত জীবনে সেই নির্ভার দিন আর ফিরে পাওয়া যায় না। পোস্টে উঠে এসেছে তাঁর প্রেম জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়ও। ‘ত্রিনয়নী’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময়ই পরিচালক স্বর্ণেন্দু সামাদ্দারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। শ্রুতি লিখেছেন, তখন বৃষ্টির দিনে স্টুডিয়োর ভেতরে একা একা ভিজে নাচতেন তিনি। দূর থেকে স্বর্ণেন্দুকে দেখার আনন্দও ছিল আলাদা।

একসময় চোখাচোখি হলে স্বর্ণেন্দু ইশারায় তাঁকে মেকআপ রুমে যেতে বলতেন, যাতে ঠান্ডা না লাগে। সেই ছোট ছোট যত্নের মুহূর্তগুলো আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। শ্রুতির মতে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বৃষ্টিভেজা স্মৃতির মধ্যে এগুলো অন্যতম। প্রেমের শুরুটা যে কত সরল হতে পারে, সেই কথাই যেন আবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি। তবে শুধু আনন্দ নয়, পোস্টে ছিল না বলা কিছু কষ্টও। শ্রুতি লিখেছেন, জীবনের কিছু অধ্যায় তিনি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন কিছু স্মৃতি আছে, যা আর কারও সঙ্গে ভাগ করতে চান না।

বর্তমানে সাফল্য, পরিচিতি আর সংসার থাকলেও সেই পুরনো নিশ্চিন্ত জীবন আর নেই। বাবা-মায়ের বয়স বাড়ছে, বাবার শরীরও আগের মতো ভালো নেই। মা একাই অনেক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই সব দেখেই অভিনেত্রীর মনে হয়, খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হয়তো ঠিক ছিল না। আরও কিছুটা সময় যদি শৈশবকে ধরে রাখা যেত, তাহলে ভালো হতো। পোস্টের শেষদিকে শ্রুতি নিজের মনের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবনে আলো, ভালোবাসা আর কাজের পাশাপাশি বাবা-মায়ের উপস্থিতিও সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

আরও পড়ুনঃ “আমার সঙ্গে আর দেখা করতে পারবে না, মেয়েরা তো আমাকে তালা দিয়ে চলে যায়” কাঁপা কন্ঠে বলেছিলেন মান্না দে! বাংলা গানকে চেনা গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়াই ছিল যার লক্ষ্য, শেষ বয়সে নির্মম পরিণতি! “একটাই আফসোস রয়ে যাবে আমার”, শিল্পীর জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন হৈমন্তী শুক্লা! কী না করতে পারার আক্ষেপ আজও তাড়া করে তাঁকে?

তাঁর কথায়, জীবনের অনেক ঝড় এলেও পরিবারই শেষ ভরসা। উল্লেখ্য, ‘ত্রিনয়নী’ ধারাবাহিক দিয়েই ছোটপর্দায় যাত্রা শুরু করেছিলেন শ্রুতি। বর্তমানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকে নিশা চরিত্রে। ব্যক্তিগত জীবনে স্বর্ণেন্দুর সঙ্গে আইনত বিয়ে হলেও সামাজিক অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা। এদিনের পোস্টে শ্রুতি আবারও প্রমাণ করলেন, তারকারাও শেষ পর্যন্ত স্মৃতি আর আবেগে ভরা সাধারণ মানুষই।

You cannot copy content of this page