“মৃ’ত্যুভয় পেরিয়ে আজও দাঁড়িয়ে, এটাই আমার সাহসের মুকুট” অভিনেত্রীর সারা শরীরে ছড়িয়ে ক্যা’ন্সারের ক্ষ’তচিহ্ন, লুকোলেন না কিছুই! ছবিতে সবটা দেখিয়েই দিলেন লড়াই জয়ের বার্তা! চোখে জল এনে দিল তাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প!

চকচকে বিনোদন দুনিয়ায় যেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, সেখানে এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিজের শরীরের অস্ত্রোপচারের দাগ প্রকাশ্যে এনে নতুন বার্তা দিলেন। তিনি জানালেন, এই চিহ্ন লুকিয়ে রাখার নয়, বরং বেঁচে থাকার প্রমাণ। সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে কিছু ছবি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি, যেখানে ক্যান্সারের চিকিৎসার পর শরীরে থাকা ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। অনেকেই এমন ছবি সামনে আনতে দ্বিধা করেন, কিন্তু তিনি সেটাকেই শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপে অনুরাগীরা আবেগপ্রবণ হয়েছেন।

বহু নারী নতুন করে সাহস পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। রোগকে হারিয়েও আত্মবিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকার এই ছবি এখন ব্যাপক আলোচনায়। কয়েক মাস আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁর শরীরে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে, অভিনেত্রী রাজশ্রী দেশপান্ডের। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি ছিল। কিন্তু সেই খবর পরিবারকে জানানোও তাঁর কাছে সহজ ছিল না। বিশেষ করে বাবা-মায়ের কথা ভেবে তিনি বারবার পিছিয়ে গিয়েছিলেন। পরে অনেক ভেবে সাহস সঞ্চয় করে সবটা জানান। সেই মানসিক চাপ, ভয়, অনিশ্চয়তা এবং ধীরে ধীরে বাস্তবকে মেনে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও তিনি ভাগ করে নিয়েছেন।

তাঁর কথায়, রোগের সঙ্গে লড়াই শুধু শরীরের নয়, মনেরও। তাই সুস্থ হওয়ার পথটা ছিল দীর্ঘ এবং কঠিন। এরপর তিনি নিজের পোস্টে লেখেন, “অনেক ভাবনাচিন্তার পরে আমি বাবা-মাকে বলার সাহস পেয়েছি ইনফিলট্রেটিং ডাক্টাল কার্সিনোমা (NOS) নামক গ্রেড ১ স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার বিষয়ে। রুটিন চেকআপের সময়ে এই রোগটি প্রাথমিক ভাবে ধরা পড়েছিল। যা নিরাময় হয়ে যাবে বলেও আশা করা যায়।” এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই ধরা পড়েছে তাঁর মানসিক অবস্থার ছবি। প্রথমে ভয় থাকলেও পরে তিনি চিকিৎসার পথে এগিয়ে যান।

নিয়ম মেনে অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তাঁকে। সেই সময়টায় কাছের মানুষদের সমর্থনও পেয়েছেন বলে জানা যায়। কঠিন সময়ের মধ্যেও তিনি ভেঙে পড়েননি। অস্ত্রোপচারের পর শরীরে যে দাগ থেকে গিয়েছে, সেটিকেই তিনি নতুন অর্থ দিয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার ক্ষতচিহ্নগুলো আমার বেঁচে থাকার গল্প বলে। প্রতিটি ক্ষতচিহ্নই মনে করিয়ে দেয় যে আমি লড়াই করেছি, আমি টিকে থেকেছি এবং আমি জিতেছি।” এই বার্তা বহু মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। সাধারণত অনেকেই এমন দাগ আড়াল করতে চান, কিন্তু তিনি তা করেননি।

বরং বলেছেন, এই চিহ্ন তাঁকে প্রতিদিন নিজের শক্তির কথা মনে করায়। যন্ত্রণা পেরিয়ে ফের উঠে দাঁড়ানোর সাহসই তাঁর আসল পরিচয়। তাই এই ছবিগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, অনুপ্রেরণারও। তিনি আরও লেখেন, “স্তন ক্যান্সারের ক্ষতচিহ্ন কিন্তু রয়ে গিয়েছে। কিন্তু তা আমার আত্মাকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি।” এই কথাতেই বোঝা যায়, রোগ শরীরকে আঘাত করলেও মনকে হারাতে পারেনি। যাঁরা বর্তমানে কঠিন অসুখের সঙ্গে লড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময় কখনও শেষ কথা নয়।

আরও পড়ুনঃ বৃষ্টি নামলেই মন কাঁদে! “বড় হতে চেয়েছিলাম, এখন আফসোস…” মেঘলা দিনে আবেগঘন শ্রুতি দাস! স্বর্ণেন্দুর প্রেম থেকে বাবার সাইকেল ও কাটোয়ার স্মৃতি নিয়ে, জীবনের কোন না বলা কষ্ট ভাগ করলেন অভিনেত্রী?

লড়াই চালিয়ে গেলে ফের আলোয় ফেরা যায়। নিজের দুর্বলতাকে লজ্জা নয়, শক্তিতে বদলে ফেলাই সবচেয়ে বড় জয়। তাঁর এই মনোভাব বহু মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “আপনারা অত্যন্ত সুন্দর, এবং এই ক্ষতচিহ্নগুলো আসলে ক্ষতচিহ্ন নয়, বরং সাহসের মুকুট।” পরে জানা যায়, তিনি এখন আবার কাজেও ফিরছেন এবং নতুন ছবির প্রচারেও অংশ নিচ্ছেন। আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগোনোর কথাই জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও জীবন থেমে থাকেনি, বরং নতুনভাবে শুরু হয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকে।

You cannot copy content of this page