টেলিভিশন জগতে একের পর এক শিল্পী যখন কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, সেই সময় আরও এক চেনা মুখ অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন। অভিনেত্রী গুলশনারা খাতুন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আর ছোটপর্দা বা নিয়মিত ক্যামেরার সামনে কাজ করতে চান না। ২০১৮ সাল থেকে অভিনয়ের জগতে সক্রিয় থাকা এই শিল্পীর কথায়, বহুদিন ধরেই তিনি এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছিলেন। মঞ্চ দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরে ধারাবাহিক ও সিনেমাতেও কাজ করেছেন। কিন্তু এখন তাঁর মনে হচ্ছে, এই পেশায় টিকে থাকার লড়াই আর সম্ভব নয়।
তাই সব কিছু ভেবে নতুন জীবনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ঘোষণা ইতিমধ্যেই টেলিভিশন মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। গুলশনারা জানিয়েছেন, কাজের জায়গায় তিনি প্রতিদিনই অবনতি দেখেছেন। তাঁর কথায়, “পেশাদার হিসাবে বলছি, আমার কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে অবনমন দেখছি। তা কাজের পরিবেশ হোক কিংবা আদর্শ।” তিনি আরও বলেন, “মনে হয়েছে, এই পেশায় থাকতে হলে যা যা যোগ্যতা লাগে, সেটা আমার নেই। আমি শুধু অভিনয়টুকু করার চেষ্টা করি।” অভিনেত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, শুধু অভিনয় জানলেই এখন আর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সহজ নয়।
ডিসেম্বরে তিনি শেষ শুটিং করেছেন। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর বড় অভিযোগ, এই পেশায় কাজের কোনও নিশ্চয়তা নেই। ধারাবাহিক কখন শুরু হবে, কতদিন চলবে, হঠাৎ কখন বন্ধ হয়ে যাবে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। গুলশনারা বলেন, “ধারাবাহিকের কাজও ধারাবাহিক ভাবে কী করে বন্ধ হয়ে যায়, আমি জানি না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তো দিনমজুর।
আমি তো জানি না আমার ১০০ দিনের কাজটাও আছে কিনা। হয়তো জানি একটি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকে ১০ দিনের কাজ রয়েছে।” তাঁর মতে, সংসার চালাতে গেলে একজন শিল্পীকে একাধিক জায়গায় কাজ করতেই হয়। কারণ শুধু একটি প্রজেক্টের উপর নির্ভর করলে চলা কঠিন। তিনি জানান, একাধিক কাজে যুক্ত থাকতে গেলেই নতুন সমস্যা তৈরি হয়। একটি ধারাবাহিকে কাজ করার সময় অন্য কোথাও সুযোগ এলেও অনেকসময় ছুটি মেলে না। গুলশনারার কথায়, “কোনও একটি কাজ করার সময়ে অন্য কোনও সুযোগ এলে, তখন আর সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে লুকসেটের জন্যও ছাড়তে পারছে না।”
আবার বলা হয়, “এতটাই গুরুত্বপূর্ণ আমার ট্র্যাক যে তখন আমাকে ছাড়াই যাবে না।” কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই পুরনো কাজেই চরিত্রের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। ফলে নতুন সুযোগও হাতছাড়া হয়, পুরনো জায়গাতেও স্থায়িত্ব থাকে না। এই অভিজ্ঞতা বহুবার হয়েছে বলেই দাবি অভিনেত্রীর। অর্থনৈতিক সমস্যার কথাও খোলাখুলি বলেছেন তিনি। করোনার পর থেকে পারিশ্রমিক নিয়েও অস্থিরতা বেড়েছে বলে জানান গুলশনারা। তাঁর কথায়, “আমি কোনও একটি চরিত্রের জন্য এক রকমের পারিশ্রমিক চাইছি।
অন্য এক জন হয়তো অনেকটা কম পারিশ্রমিকে রাজি হয়ে যাচ্ছেন।” তিনি বলেন, অন্য কেউ কত কম টাকায় কাজ করছেন, তা নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার তাঁর নেই। তবে এই প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের জায়গা ধরে রাখা কঠিন। আরও একটি সমস্যা হল জনসংযোগ। অভিনেত্রীর দাবি, কাজের বাইরে পার্টি বা অনুষ্ঠান ঘুরে সম্পর্ক বজায় রাখার স্বভাব তাঁর নেই। তাই সেই দিক থেকেও তিনি পিছিয়ে পড়েছেন। মানসিক ক্লান্তির কথাও অকপটে জানিয়েছেন গুলশনারা। তিনি বলেন, “অবসাদ নিয়েও আমি লড়াই করেছি।
আরও পড়ুনঃ “বাবা মারা গিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন…চিকিৎসার খরচেই ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছি, ছেলের পড়াশোনার জন্য বাড়ি বন্ধক রেখেছি” বিশ্বাস করে কেউ দেয়নি একটা টাকা, সাহায্য চেয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে! অভাবের অতল থেকে ফিরে আসার লড়াই, কান্নাভেজা চোখে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শোনালেন শিলাজিৎ মজুমদার!
যখন দেখছি যে, কয়েক মাস টানা কাজ থাকছে না, আবার অবসাদ গ্রাস করছে।” আরও বলেন, “দাদা-দিদিদের তুষ্ট করতে পারছি না।” যদিও তিনি এটাও জানিয়েছেন, কাউকে খুশি করার জন্য নিজেকে বদলাতে চান না। তাই তাঁর শেষ কথা, “বয়সও হচ্ছে, আর ইচ্ছা নেই। এটা একটা অসম লড়াই।” আগামী দিনে মঞ্চ ছাড়া অন্য মাধ্যমে কাজ করতে চান না তিনি। এখন তিনি শান্ত জীবন কাটাতে চান পরিবার, গাছপালা আর তাঁর ১৯টি পোষ্য বিড়ালকে নিয়ে। পাশাপাশি হাতের কাজ জানেন বলেও জানিয়েছেন, তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তিত নন।






