“দিদি যদি ডাকে ‘না’ বলা যায় না কেন, নিজস্ব মূল্যবোধ বা আদর্শ নেই?” “শুধু টিভিতে মুখ দেখা যায় বলে…” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা বিদীপ্তা চক্রবর্তীর! নাম না করেই, কোন লজ্জার কথা বললেন অভিনেত্রী?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও বদলেছে সুর। ভোটের ফল প্রকাশের পর একাধিক তারকা নতুনভাবে মত প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। এই তালিকায় অন্যতম নাম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই মন্তব্যকেই কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী। টলিউডের অন্দরে এই মন্তব্য ঘিরে জোর চর্চা চলছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করতাম, আজও করি ভবিষ্যতেও করব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “উনি ডাকলে শিল্পীরা না বলতে পারতেন না।” তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে আত্মসমালোচনার সুরও শোনা যায় তাঁর কথায়। রচনার বক্তব্য, “যেটা ভুল হয়ে গেল সেটা হল শিল্পীদের দাঁড় করালেই যে ভোটটা আসবে, এই চিন্তা ভাবনাটা ভুল হয়ে গেল।” তিনি আরও যোগ করেন, “শিল্পীরা আসলেই ভোট বাক্সে ভোট পড়ে না, সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল।” তাঁর এই মন্তব্যই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

রচনার এই বক্তব্যের পর নাম না করেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “রাজনীতির কিছু না বুঝে রাজনীতি করতে চলে এসেছে শুধুমাত্র টিভি আর সিনেমায় মুখ দেখা যায় বলে।” তাঁর দাবি, অনেকেই জনপ্রিয় মুখ হওয়ার কারণে রাজনীতিতে এসেছেন, কিন্তু বিষয়টি কতটা বোঝেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিদীপ্তা আরও বলেন, “সেটা সরকার ডেকেছে বলেই।” অর্থাৎ শুধুমাত্র দলের ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন বলেই তাঁর ইঙ্গিত। এই মন্তব্যে টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিল্পীদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে আরও স্পষ্ট মত দেন বিদীপ্তা। তিনি বলেন, “আমি খুব সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শুনলাম যে শিল্পীদের যদি দিদি বলেন প্রচারের জন্য তাহলে ‘না’ বলা যায় না। কিন্তু কেন না বলা যায় না?” এরপরই নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেন, “কই আমাকে তো কেউ ডাকেন নি। আমাকে ডাকলেও আমি না বলতাম।” তাঁর এই বক্তব্যে বোঝা যায়, রাজনৈতিক আহ্বান এলেও তিনি তাতে সাড়া দিতেন না। নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান ও মূল্যবোধের জায়গা থেকেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আর মিথ্যা বলতে পারব না… দিদি-অভিষেক জোর করে দলে এনেছিলেন”, সরকার বদলাতেই তৃণমূলের অন্দরের কথা ফাঁস করলেন দেব! সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিথ্যে বলতে বাধ্য করাতেই কি ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ঘাটালের সাংসদ?

বিদীপ্তা আরও বলেন, “এটা ম্যান টু ম্যান ভেরি করে। তাঁর মূল্যবোধ বা আদর্শ কিরকম, সেটা তো বড় হওয়ার মধ্যে থেকেই তৈরি হয়।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার খালি মনে হয় যে তাঁদের বড় হওয়াগুলো কি রকম ছিল।” তবে শেষে পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একটাই খারাপ লাগে যে কিছুজনের জন্য গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এখন কথা শুনতে হয়। এটা অত্যন্ত লজ্জার।” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জেরে বিদীপ্তার এই পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন টলিউডে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

You cannot copy content of this page