“এই কষ্ট ভীষণ তীব্র…” মায়ের মৃ’ত্যুর পর প্রথম মাতৃদিবস, আবেগে ভাসলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! কান্নাভেজা পোস্টে ফুটে উঠল গভীর শূন্যতা!

এবারের মাতৃদিবস সুদীপ্তা চক্রবর্তীর জীবনে নিয়ে এল গভীর শূন্যতা। কারণ এই প্রথম তাঁকে মা ছাড়া দিনটি কাটাতে হচ্ছে। গত ২ এপ্রিল মা দিপালী চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়। তার কয়েক দিন আগেই পরিবারে নেমে এসেছিল আরও বড় শোক, প্রয়াত হন রাহুল। একের পর এক এই দুই আঘাতে ভেঙে পড়ে চক্রবর্তী পরিবার। রাহুলের মৃত্যুর পরই জানা গিয়েছিল, সুদীপ্তা ও বিদীপ্তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় দিপালী চক্রবর্তীর।

মাতৃদিবসের সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাকে স্মরণ করে একাধিক ছবি পোস্ট করেন সুদীপ্তা। সেই ছবিগুলিতে ধরা পড়েছে মায়ের সঙ্গে পরিবারের নানা সুন্দর মুহূর্ত। কোথাও দেখা যাচ্ছে, দিপালী চক্রবর্তী হাসিমুখে ছবি তুলছেন মমতা শঙ্করের সঙ্গে। আবার অন্য ছবিতে রয়েছেন অভিনেতা দেব। আরও একটি ছবিতে দেখা যায় রুক্মিণী মৈত্রর সঙ্গেও ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তিনি। সুদীপ্তা পুরনো দিনের একটি ছবিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দিপালী চক্রবর্তীর আগের দিনের স্মৃতি উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ছবিগুলি ছিল আবেগে ভরা স্মরণপর্ব।

আরও পড়ুন: “থিয়েটার থেকে পয়সা আসত না, তবু ছাড়িনি… মায়ের মৃত্যুতেও বাড়িতে থাকতে পারিনি, দায়িত্ব ছিল কাজ থামানো যেত না” সংসারের অভাব, ব্যক্তিগত শোকের উপরে সব সময় জায়গা পেয়েছে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা! মাতৃ দিবসে অকপট অভিনেতা সুজন নীল মুখার্জি!

মায়ের ছবি পোস্ট করে নিজের মনের কথা লিখেছেন অভিনেত্রী। সুদীপ্তা লেখেন, “প্রথম মাতৃদিবস মাকে ছাড়া। এই কষ্ট ভীষণ তীব্র। কিন্তু জীবনে বাঁচতে তো হবেই। দ্যা শো মাস্ট গো অন।” এই কয়েকটি লাইনের মধ্যেই তাঁর শোক, শক্ত থাকা এবং এগিয়ে চলার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে আগলে রাখা মানুষটিকে হারিয়ে যে তিনি ভেঙে পড়েছেন, তা পোস্ট থেকেই বোঝা যায়। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব থেকেও তিনি সরে আসেননি। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সেই পোস্টেই সুদীপ্তা আরও জানান, “আজ প্রথমবার বাবা ও মা দুজনকেই মনে রেখে মঞ্চে বিনোদিনী অপেরা পরিবেশন করব। ওঁরা যেখানেই থাকুন না কেন আমাকে নিশ্চয়ই দেখছেন।” এই কথায় ধরা পড়েছে বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর গভীর টান। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রয়াত হন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দিপালী চক্রবর্তী। এবার মায়ের মৃত্যুর পর সেই শূন্যতা আরও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে পরিবারের কাছে। তাই এই বছরের মাতৃদিবস তাঁদের জন্য বিশেষভাবে বেদনাময়।

দিপালী চক্রবর্তী ছিলেন পরিচিত নৃত্যশিল্পী এবং দক্ষ ওড়িশি নৃত্যগুরু। শিল্পজগতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। শুধু নিজের কাজেই নয়, তিন মেয়ে সুদীপ্তা, বিদীপ্তা ও বিদিশাকে গড়ে তুলতেও তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। পরিবারের বড় মেয়ে বিদীপ্তা, তারপর বিদিশা, আর সবচেয়ে ছোট সুদীপ্তা। অভিনয় ও সংস্কৃতির জগতে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। তাই তাঁর প্রয়াণে শুধু পরিবার নয়, শিল্পমহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাতৃদিবসে সেই স্মৃতিকেই সামনে এনে মাকে শ্রদ্ধা জানালেন সুদীপ্তা।

You cannot copy content of this page