রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুতে তুমুল বিতর্ক, রাজ্যে নারী নি’র্যাতনের ঘটনায়ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ! চরম ব্যর্থতার পরেও নিজের পদ আঁকড়ে ছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়! রাজনৈতিক পালাবদল হতেই, হঠাৎ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা? ক্ষমতার মোহ, নাকি এতদিন প্রাক্তন সরকারের ভরসাতেই চাপা ছিল কিছু, প্রশ্ন উঠছে সমাজ মাধ্যমে?

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর থেকেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছিল লেখিকা ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। সেই সময় থেকেই ইন্ডাস্ট্রির একাংশ দাবি তুলেছিল, মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত। যদিও প্রথম দিকে তিনি পদ ছাড়েননি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবশেষে সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল। মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তিনি ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর আসার অপেক্ষা। যদিও তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাহুলের মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই। লীনার কথায়, “একদমই নয়, ওই ঘটনার সঙ্গে আমার ইস্তফার কোনও যোগ নেই। পরের মাসেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তাই তার আগেই আমি নিজে ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি। এমনিও আমাদের সময় ফুরিয়েছে, সব কিছুই এখন নতুন।” কিন্তু তাঁর এই ব্যাখ্যা ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

গত ২৯ মার্চ শুটিং করতে গিয়েই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ঘটনার পর তোলপাড় পড়ে যায় টলিপাড়ায়। একাধিক অভিযোগ ওঠে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, শুটিং সেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। রাহুলের মৃত্যুর তদন্তে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই কারণ দেখিয়েই সে সময় নিজের পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন লীনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তখন পদত্যাগ করেননি। বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার পরেও চেয়ারপার্সনের পদে বহাল ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল টলিউডের একাংশের মধ্যে। অনেকের অভিযোগ, পদ আঁকড়ে রাখার মানসিকতাই তখন বেশি স্পষ্ট হয়েছিল।

রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল সেই সময়। অভিনেতার পরিবার ও ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি ছিল, ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আনার ক্ষেত্রে যে ধরনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দেখা যায়নি। বিশেষ করে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে লীনার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। বিজেপির তরফেও অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতন কিংবা বিতর্কিত ঘটনার ক্ষেত্রে মহিলা কমিশনের ভূমিকা যথেষ্ট সক্রিয় নয়। রাহুলের মৃত্যুর ঘটনার পর সেই চাপ আরও বেড়ে যায়।

এরই মধ্যে রাজ্যে সরকার বদলের পর আচমকাই সামনে আসে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ইস্তফার খবর। যদিও জুলাই মাস পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ ছিল, কিন্তু তার আগেই মে মাসে পদত্যাগ করলেন তিনি। আর এই সময় নির্বাচনই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগের সরকারের বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সেই কারণেই সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর এই সিদ্ধান্তকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ অনেকেই। অনেকে আবার মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া চাপ এবং বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “স্ত্রী হিসেবে ওর সঙ্গে থাকা যায় না” দেবশ্রী রায়কে নিয়ে বি’স্ফোরক মিঠুন চক্রবর্তী, দিলেন ‘খামখেয়ালী ও খিটকেল’ তকমা! প্রসেনজিতের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, দ্বিতীয়বার সংসার পাতেননি অভিনেত্রী! হঠাৎ তাঁকে নিয়েই বর্ষীয়ান অভিনেতার এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কী কারণ?

যদিও ইস্তফার আসল কারণ এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি। আগামী দিনে এই বিষয় নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলেও খবর। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা আজও পুরোপুরি থামেনি। বরং রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগ সেই বিতর্ককে আরও নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

You cannot copy content of this page