“৪৬ সালের ইতিহাসও কি রাজনীতি?” “সব জায়গায় হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ?” এত বছরের কেরিয়ারে এমন অপমান পাইনি! রাজ্যে পালাবদলের পরই মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’, ক্ষুব্ধ মিঠুন চক্রবর্তী! ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও তুললেন অভিনেতা?

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বাংলায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘বেঙ্গল ফাইলস’। আগামীকাল রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি রিলিজ হওয়ার কথা সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে। প্রথম দিন থেকেই এই ছবির মুক্তি নিয়ে নানা বাধা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। কখনও আদালত, কখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করে ছবির মুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন নির্মাতারা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতেই এবার ছবির মুক্তির পথ খুলেছে। আর সেই আবহেই কলকাতায় এসে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

ছেলের নতুন ছবি ‘আখরি সাভাল’-এর প্রচারে শহরে এসে তিনি ‘বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ্যে আনলেন। প্রেস কনফারেন্সে মিঠুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে নমাশি চক্রবর্তী। ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এ নমাশিও অভিনয় করেছিলেন। সেই কারণেই ছবিটি নিয়ে তাঁদের আবেগ আরও বেশি ছিল বলে জানান অভিনেতা। মিঠুন বলেন, “বাংলায় বেঙ্গল ফাইলস রিলিজ বন্ধ হওয়ায় আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। কষ্ট হয়েছিল। আমার ছেলে খুব ভাল কাজ করেছিল, আমিও ছিলাম সেই ছবিতে।” তিনি আরও জানান, এত বছরের অভিনয় জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখে আগে কখনও পড়তে হয়নি। তাঁর কথায়, “জীবনে কোনোদিন হয়নি এমন, এতবছর আমি কাজ করছি, এত সিনেমায় অভিনয় করেছি।

আমার সিনেমাকে আটকে দেওয়া হয়েছিল এমন আমার সাথে কোনদিন হয়নি।” এই ঘটনার জন্য তিনি গভীরভাবে হতাশ হয়েছিলেন বলেও জানান। ছবিটিকে ঘিরে বারবার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা টেনে আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, ‘বেঙ্গল ফাইলস’ মূলত ইতিহাসভিত্তিক একটি ছবি, যেখানে স্বাধীনতার আগের বাংলার এক কঠিন সময়কে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ইতিহাসকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার বিষয়টি তিনি মানতে পারেননি। অভিনেতার বক্তব্য, “বারবার এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিসের রাজনীতি? ৪৬ সালের ঘটনা রাজনীতি? আমাদের স্বাধীনতার আগের সেই ঘটনাকে, রাজনৈতিক বলে দিলেই হল?”

তিনি মনে করেন, অতীতের ঘটনাকে তুলে ধরা মানেই কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়। বরং ইতিহাসকে জানানো এবং আলোচনা করা জরুরি বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন। মিঠুন আরও বলেন, ছবিটিকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টাও হয়েছিল। এই বিষয়টিই তাঁর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে বলে জানান অভিনেতা। তাঁর কথায়, “আরে সব জায়গায় আপনার হিন্দু মুসলিম চোখে পড়ে? একটা দেশের ঘটনা চোখে পড়ে না?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও ঐতিহাসিক ঘটনায় ধর্মীয় সংঘাতের প্রসঙ্গ থেকে থাকে, তবে সেই সত্যিটা দেখানো নিয়ে এত আপত্তি কেন হবে। অভিনেতার বক্তব্য, “যদি হিন্দু মুসলিম থেকে থাকে তবে সেই ঘটনাও সত্যি নিশ্চয়ই ঘটেছিল। এত সমস্যা কিসের সেই ঘটনা দেখাতে?”

আরও পড়ুনঃ অভিনয় দিয়ে শুরু, অন্য পথেই খুঁজে পেলেন নিজের পরিচয়! সমকামী ও অভিবাসী আন্দোলন নিয়ে সরব, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসিত! মিঠুন চক্রবর্তীর মেজো ছেলেকে চেনেন? কী করেন জানেন তিনি?

তাঁর মতে, ছবির বিষয়বস্তু না দেখে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চশমায় বিচার করাই সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় মিঠুন চক্রবর্তীকে। তিনি দাবি করেন, কিছু মানুষ শুধুমাত্র সরকারের মন জোগাতেই ছবির বিরোধিতা করেছিলেন। অভিনেতার মন্তব্য, “খালি একদল সরকারের পায়ে তেল দিয়ে গেল। তারপরে এমন তেল লাগালো যে চেয়ার পিছলে পড়ে গেল।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বহু বাধা কাটিয়ে ‘বেঙ্গল ফাইলস’ অবশেষে বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে, সেই খবরেই উচ্ছ্বসিত ছবির সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা। ছবির মুক্তির আগে মিঠুনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে গোটা বিষয়টিকে।

You cannot copy content of this page