টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরী আবারও চর্চায় উঠে এলেন তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্যকে ঘিরে। বাংলা থেকে হিন্দি, এমনকি হলিউড প্রোজেক্টেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনেতা খোলাখুলি জানান, বহু বছর ধরেই তিনি আর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেন না। কারণ হিসেবে উঠে আসে তাঁর স্ত্রী শর্মিলি রায় চৌধুরী-র কথা। অভিনেতার কথায়, “আমি ইনটিমেট সিন করা অনেক বছর হল বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ আমার স্ত্রী পছন্দ করেন না।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বহু অনুরাগী টোটার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। আবার অনেকেই তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য সম্পর্কের বোঝাপড়ার প্রশংসা করেছেন।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতি অভিনেতার এই সম্মান অনেকের মন জিতে নিয়েছে। স্ট্রেট আফ উইথ শ্রী পডকাস্টে টোটাকে বলতে শোনা যায়, “আমার কাছে এটা যদিও অভিনয়। ওরকমভাবে তো বলে না কখনো পরিষ্কারভাবে, আমাকে একবার বলেছিল, এগুলো জানো তো আমার দেখতে ভালো লাগে না।” অভিনেতা আরও বলেন, তিনি বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই দেখেছেন। তাঁর মতে, “আমি ভাবলাম, ও যদি অভিনেত্রী হত, আমি যদি দেখতাম ও খুব ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করছে, আমারও তো সেটা ভালো লাগত না।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, স্ত্রী শর্মিলির অনুভূতিকে তিনি বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্পর্কের জায়গা থেকে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করেছেন দুজনেই।
অভিনেতার এই সোজাসাপটা স্বীকারোক্তি দর্শকদের কাছেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের এত খোলামেলা আলোচনা সাধারণত খুব কম তারকাকেই করতে দেখা যায়। সেই কারণেই টোটার এই সাক্ষাৎকার নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। শুধু টলিউড নয়, আন্তর্জাতিক স্তর থেকেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন টোটা! অভিনেতা জানান, সম্প্রতি একটি হলিউড ওটিটি সিরিজের প্রস্তাব তাঁর কাছে এসেছিল। পুরো শুটিং হওয়ার কথা ছিল নিউ ইয়র্কে এবং ২০২৭ সালে সেটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। টোটার কথায়, “আমার অডিশন দেখে তাঁদের পছন্দ হয়েছিল একটা চরিত্রের জন্য, গুরুত্বপূ্র্ণ চরিত্র। সিলেক্টেড হয়ে গেছিলাম।”
কিন্তু পরে তাঁকে জানানো হয়, সেখানে একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “আমি বললাম, তোমরা বলছ ইনটিমেট সিন, হলিউডের লোকেরা। তার মানে কোন মাত্রায় যেতে পারে!” এরপর তাঁকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, “তুমি চিন্তা কোরো না, ইনটিমেসি কোচ থাকবে।” তবে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ভেবেই সেই কাজ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। টোটার স্পষ্ট কথা, “হয় তোমরা এই সিনটা ড্রপ করো, নয় আমাকে।” অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহ কম নয়। প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে রয়েছেন টোটা ও শর্মিলি।
কলেজ জীবন থেকেই তাঁদের আলাপ। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম এবং শেষে বিয়ে। টোটার অভিনয় জীবনের নানা কঠিন সময়েও পাশে থেকেছেন শর্মিলি। তিনি নিজেও একসময় মডেলিং করতেন, কিন্তু পরে সংসার ও সন্তানকে সময় দিতেই সেই কেরিয়ার থেকে সরে আসেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি। তবে টোটার জীবনে তাঁর অবদান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অভিনেতার কথাতেই স্পষ্ট। দাম্পত্য সম্পর্কের পাশাপাশি একে অপরের কাজের প্রতিও তাঁরা সবসময় সম্মান রেখেছেন। এই কারণেই এত বছর পরেও তাঁদের সম্পর্ক এত দৃঢ় বলেই মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ “এতদিনে উচিত শিক্ষা হয়েছে, যেই মুহূর্তে পাশা উল্টেছে…” ক্ষমতা হারানোর পর একা মমতা? তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে বি’স্ফোরক মন্তব্য, বামপন্থী অভিনেত্রী মানসী সিনহার! কোয়েল মল্লিক প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুললেন তিনি?
বর্তমানে টোটা ও শর্মিলির মেয়ে মৃগাক্ষী রায় চৌধুরী বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। পরিবার নিয়ে সুখেই সময় কাটাচ্ছেন অভিনেতা। অন্যদিকে কাজের ক্ষেত্রেও টোটা এখনও সমান ব্যস্ত। ২০০৩ সালে চোখের বালি ছবির মাধ্যমে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা পান। এরপর শুভ মহরৎ, গল্প হলেও সত্যি এবং জানবাজ-এর মতো একাধিক বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে। হেলিকপ্টার ইলা, দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন এবং রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-র মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি আরও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাদার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এগিয়ে চলেছেন অভিনেতা।






