“১৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে, আমার শুটিং আটকাতে…” স্বরূপ বিশ্বাস ও পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে গু’ণ্ডারাজ, হুম’কির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পরিচালক বাবাই সেনের! বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের দমিয়ে রাখতেই এতদিন কেমন ‘গিল্ড রাজ’ চলত? কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন তিনি?

সরকার বদলের পর থেকেই বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক অন্দরমহলের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। এতদিন যেসব বিষয় নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি, এবার সেই সব নিয়েই সরব হচ্ছেন শিল্পী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের একাংশ। টলিপাড়ায় ‘গিল্ড রাজ’, কাজ বন্ধ করে দেওয়া, হুমকি, চাপ সৃষ্টি, নতুনদের সুযোগ না দেওয়া এমন একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে আনলেন পরিচালক বাবাই সেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে এই সংস্কৃতির কারণে বহু নতুন পরিচালক ও প্রযোজকের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে।

পরিচালক বাবাই সেন বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি ‘শিউলি’ নিয়ে কাজ করছেন। এই ছবিকে ঘিরেই তিনি একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বাবাই সেনের দাবি, অযোধ্যা পাহাড়ে ছবির শুটিং চলাকালীন আচমকাই তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁরা নাকি ঠিকভাবে ‘গিল্ড’ নিয়ে কাজ করছেন না। যদিও পরিচালকের দাবি, তাঁরা গিল্ড নিয়েই কাজ করছিলেন, শুধুমাত্র অতিরিক্ত দু’দিনের শুটিংয়ের অনুমতির বিষয়টি আগে জানানো হয়নি। বাবাই সেন সরাসরি গিল্ডের সঙ্গে যুক্ত স্বরূপ বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তাঁদের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে শুটিং পুনরায় করতে গিয়ে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। পরিচালকের দাবি, পাহাড়ি এলাকায় অত্যন্ত কষ্ট করে শুটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্যামেরা, লাইট, শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নিয়ে প্রায় দু’কিলোমিটার পথ হেঁটে শুটিং স্পটে পৌঁছতে হয়েছিল। সেই অবস্থায় কলকাতা থেকে ফোন আসে এবং শুটিং বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, বাবাই সেন আরও অভিযোগ করেন যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ‘মনোপলি’ বা গোষ্ঠীতন্ত্র চলেছে। তাঁর কথায়, নতুন পরিচালক বা ছোট প্রযোজকরা নিজেদের মতো কাজ করতে গেলেই নানা বাধার মুখে পড়তেন। অনেক সময় প্রযোজকদেরও চাপ দেওয়া হতো যাতে তাঁরা নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ না করেন। এর ফলে বহু প্রতিভাবান পরিচালক উঠে আসার সুযোগই পাননি। পরিচালকের অভিযোগ, স্বরূপ বিশ্বাসের টিমের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় তাঁর কাজ আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি বাবাই সেনের। এমনকি মুম্বই থেকে আসা একটি বড় প্রজেক্টও নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁর। পরিচালকের কথায়, সেই প্রজেক্টটি হলে বহু টেকনিশিয়ানের দীর্ঘদিনের কাজের সুযোগ তৈরি হত।

এছাড়াও বাবাই সেন দাবি করেন, পিয়া সেনগুপ্ত এবং গিল্ডের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘিরেও ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। যদিও পিয়ার বিরুদ্ধে তিনি নির্দিষ্ট আর্থিক অভিযোগ আনেননি, তবে তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রির একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নতুনদের কাজ করতে দিতে চাইত না এবং বাইরে থেকে টিম এনে কাজ করলেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত। ‘শিউলি’ ছবির মিউজিক ডিরেক্টর প্রীতম দেবও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালীন হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোটা ইউনিট আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রীতমের কথায়, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছিলাম। কিন্তু এমনভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল যেন আমরা বড় কোনও অপরাধ করেছি।” তাঁর আরও অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিবাদ করলেই অনেককে ‘ব্যান’ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।

বাবাই সেন আরও দাবি করেন, তাঁর আগের ছবির ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কলকাতাজুড়ে পোস্টার লাগানোর পর রাতারাতি সেই পোস্টারের উপর অন্য বড় ব্যানারের পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকি সিনেমা হল থেকেও তাঁর ছবি নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। বাধ্য হয়ে তিনি ছবিটি বাংলা ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যে ও হিন্দি ডাবিং ভার্সনে মুক্তি দেন।

আরও পড়ুনঃ “হয় আমায় বাদ দাও, নয় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সরাও” হলিউড প্রজেক্টে মুখের উপর ‘না’ করলেন টোটা রায় চৌধুরী! ২৫ বছরের সম্পর্কে সম্মানটাই আসল, কাজ না পেলেও ‘ইনটি’মেট সিন’ করেননা তিনি! দাম্পত্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত! কী বলেছিলেন অভিনেতার স্ত্রী শর্মিলি?

পরিচালকের মতে, এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ প্রতিভাবান শিল্পীরা সামনে আসার সুযোগ পেতেন না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, এবার নতুন প্রজন্মের পরিচালক, অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানরা নিজেদের যোগ্যতায় কাজের সুযোগ পাবেন এবং বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সুস্থ পরিবেশ ফিরবে। সবশেষে বাবাই সেন বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত লড়াই করছি না। আমরা শুধু চাই নতুন প্রতিভারা সুযোগ পাক, ভালো কনটেন্ট সামনে আসুক। কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত ভালো গল্পই দেখতে চায়।”

You cannot copy content of this page