শুটিং ফ্লোরের ঝলমলে আলো আর ক্যামেরার পিছনে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা অভিজ্ঞতা। কখনও দীর্ঘক্ষণ কাজের চাপ, কখনও দূরবর্তী লোকেশনে শারীরিক অসুস্থতা, আবার কখনও ভাষা বা পরিবেশের সমস্যায় বিপাকে পড়তে হয় শিল্পীদের। দর্শকের সামনে সব সময় হাসিখুশি মুখে ধরা দিলেও, বাস্তবে অনেক সময়ই জীবন-মৃত্যুর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অভিনেতাদের। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ভিডিও সেই অজানা বাস্তবকেই আবার সামনে এনে দিল।
অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বরাবরই নিজের অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কাজের জগতের নেপথ্যের গল্প থেকে শুরু করে সহকর্মীদের নিয়ে নানা স্মৃতি তুলে ধরতে দেখা যায় তাঁকে। এবারও তেমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে তিনি অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তবে সেই ঘটনার গভীরতা কতটা ছিল, তা প্রথমে আন্দাজই করতে পারেননি অনেকেই।
ভাইরাল হওয়া সেই ক্লিপে শাশ্বত জানান, হায়দ্রাবাদে একটি কাজের সূত্রে গিয়েছিলেন খরাজ মুখার্জি। সেই সময় আচমকাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে তাঁকে দ্রুত হায়দ্রাবাদের কামিনেনি হসপিটালসে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই শুরু হয় সবচেয়ে বড় সমস্যা। সেখানে অধিকাংশ মানুষ দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় কথা বলতেন, ফলে খরাজ মুখার্জি নিজের শারীরিক সমস্যার কথা ঠিকভাবে বোঝাতে পারছিলেন না। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের সঙ্গেও স্বাভাবিক যোগাযোগ গড়ে উঠছিল না।
শাশ্বতের দাবি, সেই কমিউনিকেশন গ্যাপের কারণেই ধীরে ধীরে খরাজ মুখার্জির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। অভিনেতা কী ধরনের সমস্যা অনুভব করছেন বা শরীরে ঠিক কোথায় কষ্ট হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। সেই সময় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নেন, আর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তাঁরা দ্রুত খরাজ মুখার্জিকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন চিকিৎসার জন্য। শাশ্বতের কথায়, সেই সময় অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল যে খরাজ মুখার্জি প্রায় মৃত্যুর মুখে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে পালাবদলের আবহে এবার ‘শিবলিঙ্গে ক’ন্ডোম’ বিতর্কে নতুন মোড়! “আমি নিজেও তো হিন্দু…আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে” মুখ খুললেন সায়নী ঘোষ! কার নিশানায় তৃণমূল নেত্রী-অভিনেত্রী?
পুরনো এই ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই বলছেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক কমিউনিকেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তার বড় উদাহরণ। ভাষার সমস্যা বা নিজের অসুস্থতার কথা স্পষ্টভাবে বলতে না পারলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটাই যেন সামনে এনে দিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি বহু মানুষ খরাজ মুখার্জির সেই সময়কার অবস্থার কথা জেনে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। ঝলমলে বিনোদন জগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।






