বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখকে নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে দেখা গিয়েছে। একসময় যাঁরা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতেন, সরকার বদলের হাওয়া লাগতেই তাঁদের অনেকেই ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করেছেন রাজনীতি থেকে। কেউ আবার সম্পূর্ণভাবে নীরব থেকেছেন, কেউ বা অন্য সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে নিয়েও গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। বিশেষ করে দলের খারাপ ফলাফল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সমালোচনার পর তাঁকে নিয়ে একাধিক জল্পনা তৈরি হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। সেই সময় দলের প্রচারেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যেমন সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল, তেমনই বিরোধীদের তরফেও সমালোচনা শুরু হয়েছিল। তবে নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায়নি। আর সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ায় যে তিনি নাকি দল ছাড়তে চলেছেন। এমনকি অনেকেই দাবি করতে শুরু করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না অভিনেত্রী।
তবে সম্প্রতি একটি লাইভ বার্তায় সমস্ত জল্পনার ইতি টানেন কোয়েল মল্লিক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনও ইস্তফা দেননি এবং মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। অভিনেত্রীর কথায়, “তৃণমূলের প্রত্যেকটা ক্যান্ডিডেট এতটাই স্ট্রং এবং তারা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে।” একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের ব্যস্ততার কারণে হয়তো সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না। তবে তাতে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায় না বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে “খেলা হবে” মন্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোয়েলের এই মন্তব্য সামনে আসতেই ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশ তাঁর স্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ বা সমালোচনার মুখেও নিজের মত ধরে রাখা সহজ নয়। আবার অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্যই তিনি সক্রিয় ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে অভিনেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতেও দেখা গিয়েছে অনেককে। এমনকি তাঁর রাজনৈতিক এলাকায় তাঁকে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় কিছু নেটিজেনকে।
আরও পড়ুন: “উনি জয়কে খুব হিংসে করত, চায়নি আমাদের বিয়েটা হোক” জয় সরকারকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিজের কাকা! কেন লোপামুদ্রার সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর? অতীতের কোন অধ্যায় ফাঁস করলেন গায়িকা?
খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিতর্ক ও লাগাতার সমালোচনা মানসিকভাবে চাপে ফেলেছিল অভিনেত্রীকে। তবুও তিনি পিছিয়ে আসতে চান না বলেই ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার ইচ্ছেও এখনও রয়েছে তাঁর। কোয়েল মল্লিকের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভয়ভীতি বা কটাক্ষ তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। রাজনৈতিক বিতর্ক, সমালোচনা ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপের মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি। আর সেই বার্তাই যেন ফের একবার স্পষ্ট করলেন তাঁর সাম্প্রতিক লাইভ বক্তব্যে।






