টলিউড ফেডারেশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে ‘রুদ্রনীল ঘোষ’ (Rudranil Ghosh) ও ‘পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়’কে (Parambrata Chattopadhyay) একসঙ্গে পাশাপাশি বসে দেখা যাওয়ার পর থেকেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই বৈঠকে পরমব্রতকে নিজের পাশে জায়গা দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল। কিন্তু সেই ছবিই এখন উল্টে কটাক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিনেতার জন্য! বিশেষ করে একাংশ বিজেপি সমর্থকের প্রশ্ন, যাঁর কাছ থেকে অতীতে প্রকাশ্যে কটূক্তি শুনতে হয়েছিল, তাঁকেই আবার এত সহজে পাশে বসালেন কীভাবে রুদ্রনীল? পুরনো সম্পর্কের কাছে কি তবে রাজনৈতিক আঘাত তুচ্ছ হয়ে গেল? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে নেটপাড়ায়।
অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, একসময় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নিজের নামের পাশে রুদ্রনীলের নাম জুড়ে দেওয়াতেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট করেই দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সমাজ মাধ্যমে করা তাঁর সেই বিতর্কিত “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক”পোস্টটিকেও বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা বলেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই সময় বিজেপি সমর্থকদের একাংশ পরমব্রতের বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন। ফলে এতকিছুর পর আবার সেই পরমব্রতকেই নিয়ে রুদ্রনীলের এত স্বাভাবিক ব্যবহার মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
তাঁদের প্রশ্ন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি সত্যিই সব রাজনৈতিক অপমানকে ছাপিয়ে যেতে পারে? অন্যদিকে, বৈঠকে পরমব্রতের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি জানান, মতাদর্শে তীব্র অমিল থাকলেও তাঁর ও রুদ্রনীলের ২৫ বছরের বন্ধুত্ব কখনও ভাঙেনি। এমনকি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আলাদা রেখেছেন বলেও দাবি করেন অভিনেতা। সেই মন্তব্যের পরই একাংশের বক্তব্য, রুদ্রনীল হয়তো ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তাতেও বিতর্ক কমছে না। বরং অনেকের মতে, যাঁরা অতীতে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন, তাঁদের প্রতি এত সহজ গ্রহণযোগ্যতা দেখানোয় বিভ্রান্ত হচ্ছেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা।
পরমব্রতের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। একদিকে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের তরফে তাঁকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে আবার আরজি কর বা এসএসসি কাণ্ডের মতো ঘটনা ভুলে সেই দলে যোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন। আবার একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত সম্মানের কথাও বলেছেন তিনি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যেই। আর সেই আবহেই রুদ্রনীলের সঙ্গে তাঁর এই প্রকাশ্য সৌহার্দ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটপাড়ার একাংশ বলছে, রাজনৈতিক অবস্থান বদলানো এক বিষয়, কিন্তু অতীতের মন্তব্য কি এত সহজে ভুলে যাওয়া যায়?
আরও পড়ুন: “রাজনীতি আমি করব…আমি তৃণমূলের সাথেই আছি, আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই” রাজ্যে সরকার পালাবদলের পর একের পর এক টলিউড শিল্পীর মুখে শোনা যাচ্ছে ‘পল্টির’ সুর, সেখানে সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন কোয়েল মল্লিক?
তবে অন্য একটি অংশ আবার বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে। তাঁদের মতে, টলিউডের দীর্ঘদিনের অশান্তি মেটাতে গেলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাদার জায়গাকে আলাদা করে দেখতেই হবে। সেই কারণেই হয়তো রুদ্রনীল পুরনো তিক্ততা ভুলে আলোচনার টেবিলে পরমব্রতকে জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ দর্শক বা রাজনৈতিক সমর্থকেরা কি সেটাকে সেইভাবে নিচ্ছেন? নাকি তাঁদের চোখে বিষয়টা শুধুই ‘অতিরিক্ত উদারতা’? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া অন্তত বলছে, রুদ্রনীলের এই আচরণে যেমন কেউ তাঁর পরিণত মানসিকতার প্রশংসা করছেন, তেমনই অনেকে আবার পুরনো অপমান ভুলে যাওয়াকে দুর্বলতা বলেই মনে করছেন।






