“আগে আমাদের গা’লমন্দ করত…আবেগ থেকে ভাবছে…” পাশে বসানো থেকে ‘রগড়ানি’ পোস্ট বিতর্ক, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রকাশ্যে একি বলে ফেললেন রুদ্রনীল ঘোষ?

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে রুদ্রনীল ঘোষ ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নাম। খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁদের নতুন ছবি ‘হাওয়া বদল টু’। ঠিক এই সময়েই টলিউডের অন্দরমহল ও রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একসময় বিজেপির সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত রুদ্রনীল এখন রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক। আর সেই পরিবর্তনের মাঝেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে একটি বৈঠকে তাঁর পাশে দেখা যায় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা শুরু হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, পরমব্রত কি এবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলাচ্ছেন? আবার অনেকে কটাক্ষ করে ‘পরম পাল্টি’ বলেও মন্তব্য করেন। কারণ অতীতে বিজেপি ও গেরুয়া শিবির নিয়ে একাধিকবার সরব হতে দেখা গিয়েছিল পরমব্রতকে।

গত বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে টেকনিশিয়ানদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সহ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখ। টলিউডের ভিতরে কাজের পরিবেশ, সংগঠন ও নানা সমস্যা নিয়েই সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে বৈঠকের পর থেকেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে আসে রুদ্রনীল ও পরমব্রতের একসঙ্গে উপস্থিতি। নেটমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে যিনি এতদিন বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন, তিনিই এখন রুদ্রনীলের পাশে কেন? বিশেষ করে টলিউডের অরাজকতা নিয়ে পরমব্রতের কিছু মন্তব্য ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর অবস্থানও কি বদলাচ্ছে, সেই প্রশ্নই ঘুরতে থাকে বিভিন্ন মহলে।

আরও পড়ুন: অ’ন্ধ মেয়ের মৃ’ত্যুতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সব…পান্তুয়া দিয়ে ম’দ খাওয়া হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের সঙ্গী! একের পর এক শোকের ধাক্কা, তীব্র আর্থিক সংকট আর না পাওয়ার যন্ত্রণা ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রের ‘চার্লি চ্যাপলিন’ জহর রায়কে! পর্দার হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখতেন অনেক যন্ত্র’ণা?

এই জল্পনার মধ্যেই একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন রুদ্রনীল ঘোষ। যদিও সরাসরি পরমব্রতের নাম নেননি তিনি, তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। রুদ্রনীল বলেন, “এটা তো সরকার নির্দেশিত টেকনিশিয়ানদের নিয়ে সুসংগঠিত হওয়ার একটা মিটিং।” তিনি আরও জানান, অনেকেই ভুল বুঝছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা বিভিন্ন সময় বিজেপির বিরুদ্ধে বিষদগার করেছে, যাঁরা আমাদের গালমন্দ করত, তাঁরা ওই মিটিংয়ে পৌঁছেছেন এবং সেখানে আমি রয়েছি, তার মানে কি তাঁরা বিজেপিতে জয়েন করার চেষ্টা করছেন?” রুদ্রনীলের দাবি, অনেকেই আবেগের জায়গা থেকে এই ধারণা তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, কোনও মঞ্চে একসঙ্গে উপস্থিত থাকলেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায় না।

এই প্রসঙ্গে আবার সামনে আসে ২০২১ সালের ২ মে-র একটি পুরনো টুইট। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।” সেই পোস্টে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, “হা হা হা হোক হোক।” সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফেরার পর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকের অভিযোগ ছিল, ওই পোস্ট হিংসাকে উসকানি দিচ্ছে। যদিও পরবর্তীতে পরমব্রত দাবি করেছিলেন, দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্যের জবাব হিসেবেই তিনি ওই টুইট করেছিলেন। উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “শিল্পীরা নাচ, গান করুন, রাজনীতিতে এসে বাড়াবাড়ি করলে রগড়ে দেব।” সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর পোস্ট ছিল বলে জানান পরমব্রত।

পাঁচ বছর পর এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর ফের সেই টুইট নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২১ মে গড়িয়াহাট থানায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই টুইট হিংসায় উসকানি দেওয়ার সামিল। এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল টিভি নাইন বাংলাকে বলেন, “পরমব্রতর নানা কথায় যদি মানুষ ব্যথিত হন, দুঃখ পান এবং ওর কথায় যদি কারও রাগ, যন্ত্রণা হয়, তাহলে সেই অভিব্যক্তির প্রকাশ তো হবেই।” তিনি আরও বলেন, “কোনও একটি টুইট করেছিল পরমব্রত, বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক, সেটা নিয়ে স্বস্তিকা কমেন্ট করেছে। এটা নিয়ে কেউ একজন মামলা করেছে, আইন আইনের পথে হাঁটছে, মানুষ তাঁদের রাগ, তাঁদের দুঃখ ব্যক্ত করবেই।” এই মন্তব্যের পর নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের জোর চর্চা।

You cannot copy content of this page