বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অনীক দত্তর আকস্মিক মৃত্যু এখনও অনেকের কাছেই বিশ্বাস করা কঠিন। পরিচালকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেখানে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কথায়, অনীক দত্ত শুধু সহকর্মী ছিলেন না, ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি ছিলেন তাঁর “একমাত্র বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবক”। পরিচালককে হারানোর ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেননি অভিনেত্রী। শোকাহত অবস্থাতেই তিনি জানান, অনীক দত্ত দীর্ঘদিন ধরেই অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শ্রীলেখার কথায়, “অনীকদার মৃত্যু নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা সত্যি আমার নেই। অবসাদ খুব সাংঘাতিক একটা বিষয়।” পরিচালকের মৃত্যু যেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেরও এক বড় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার দুপুরে গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অনীক দত্ত। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই অবসাদের প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে এসেছে। শ্রীলেখা বলেন, “দিনের পর দিন মানুষ অবসাদকে অবহেলা করে। যাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না, তাঁরা ভাবেন, ‘অবসাদ এমনকি যে, এমন চরম পদক্ষেপ করতে হবে’!” তাঁর মতে, মানসিক অবসাদকে এখনও অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ এই সমস্যাই একজন মানুষকে ভিতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। অভিনেত্রীর দাবি, অনীক দত্তও ধীরে ধীরে সেই মানসিক অন্ধকারের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরিচালকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন শ্রীলেখা। তিনি জানান, নিয়মিত কথা হত তাঁদের মধ্যে। সিনেমা থেকে সমাজ, রাজনীতি, ব্যক্তিগত জীবন সব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলত। একদিনের একটি কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, “প্রায়ই কথা হত। এক দিন কথায় কথায় বলেছিলাম, ‘আর বাঁচতে ভাল লাগে না।’ অনীকদা তখন বলেন, ‘একদম ঠিক বলেছ। আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না।’” সেই সময় কথাগুলোকে হয়তো সাধারণ হতাশা বলেই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ পরিচালকের মৃত্যুতে সেই কথাগুলো অন্যভাবে মনে পড়ছে অভিনেত্রীর। শ্রীলেখা বলেন, “মানুষটার কী রসবোধ ছিল! অভিজাত বাঙালি ছিলেন। তাঁর যে এমন কিছু হতে পারে, ভাবতে পারিনি।” তাঁর মতে, অবসাদ ধীরে ধীরে মানুষকে একেবারে নিঃশেষ করে দেয়।
শুধু কথাতেই নয়, অনীক দত্তকে ভাল রাখার চেষ্টাও করতেন শ্রীলেখা। তিনি জানান, মাঝেমধ্যেই পরিচালকের সঙ্গে সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতেন। অভিনেত্রীর কথায়, “ওটিটি-তে ছবি দেখতে বলতাম। অনীকদা বলতেন, ‘আর ভাল লাগে না।’” এমনকি একসময় তাঁকে পোষ্য রাখার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, বাড়িতে একটি প্রাণী থাকলে পরিচালকের মন ভাল থাকবে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে অনীক দত্তর উত্তর ছিল আরও বেশি কষ্টের। শ্রীলেখা বলেন, “অনীকদাকে কুকুর পুষতেও বলেছিলাম। তখন অনীকদা বলেছিলেন, ‘আমাকেই দেখার কেউ নেই। কী ভাবে আর একটা প্রাণকে দেখব?’” এই কথাগুলো থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, তিনি ভিতরে ভিতরে কতটা ভেঙে পড়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে ফের শক্ত ঘুঁটি সাজাচ্ছে স্টার জলসা! ‘পরশুরাম’-এর দাপট অব্যাহত, প্রথম সপ্তাহেই নজর কাড়ল ‘বাবলি সুন্দরি’! ‘বিদ্যা ব্যানার্জি’র দুরন্ত কামব্যাকে ছিটকে গেল ‘পরিণীতা’? ‘তারে ধরি ধরি’র জায়গা কোথায়? জেনে নিন এই সপ্তাহের ফলাফল!
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ এবং ‘বরুণবাবুর বন্ধু’র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন অনীক দত্ত ও শ্রীলেখা মিত্র। অভিনেত্রীর দাবি, পরিচালক কখনও স্বার্থের সম্পর্ক তৈরি করেননি। তিনি বলেন, “কোনও স্বার্থ ছিল না। অনীকদাকে কখনও বলিনি, ‘তোমার ছবিতে আমাকে নিয়ো’।” তবু সবসময় শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো পাশে থেকেছেন পরিচালক। আজ তাঁর মৃত্যুতে শুধু নিজের ক্ষতির কথাই ভাবছেন না শ্রীলেখা, ভাবছেন পরিচালকের পরিবারকেও নিয়ে। অভিনেত্রীর কথায়, “বাড়ি ফিরে আর বাবাকে দেখতে পাবে না অনীকদার মেয়ে।” শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেকি মানুষ আমি সহ্য করতে পারি না। সেখানে অনীকদা ছিলেন খাঁটি মানুষ। তাই চিরকালের ক্ষতিটা আমার হয়ে গেল।”






“আগে ২৮ ছিলাম, এখন ৩৪ হয়ে গেছি… আমাকে হট-প্যান্টে দেখেই প্রেমে পড়েছিল কাঞ্চন!” বিয়ের পর শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলতেই ফের ট্রো’লড শ্রীময়ী!