“আমার খুব শখের বহুমূল্য আংটি ছিল…চো’রের মায়ের বড় গলা, ভয় দেখাতে পুলিশে অভিযোগ” গৃহপরিচারিকাকে আটকে রেখে হে’নস্থার ও অ’ত্যা’চার, আত্মপক্ষ সমর্থনে মুখ খুললেন সম্রাট মুখার্জি! কী জানালেন অভিনেতা?

অভিনেতা সম্রাট মুখার্জিকে ঘিরে এবার বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গৃহপরিচারিকাকে চোর অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ মে বিকেলে অভিনেতার বাড়ি থেকে একটি দামি আংটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও সেটি না মেলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরপরই পরিচারিকাকে সন্দেহ করা হয় বলে অভিযোগ। মহিলার দাবি, তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এমনকি কিছু না পাওয়ার পরও পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্রাট মুখার্জি বাড়ির দারোয়ানকে অ্যাসিড ও লাঠি আনতে বলেন। পরে সেই লাঠি দিয়েই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, লাঠির আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হয়। বুকে, পিঠে ও পেটে লাথি মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দেওয়ালে কপাল ঠুকে দেওয়ার কারণেই কপাল ফুলে রক্ত জমে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে টলিপাড়ায়। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা সম্রাট মুখার্জি। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি জানান, “বিগত একমাস আগে একটি সংস্থা মারফত কাজ করতে আসেন মহিলা৷ আমি মহিলাকে ভাল করে চোখেই দেখিনি৷ কারণ সকালে কাজে বেরোই রাতে ফিরি৷”

ঘটনার নিজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সম্রাট মুখার্জি বলেন, সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নানে যাওয়ার আগে তিনি হাতের দুটি হীরের আংটি খুলে রেখেছিলেন। এরপর তাড়াহুড়োয় নাটকের রিহার্সালে বেরিয়ে যান। পরে বাইরে গিয়ে আংটির কথা মনে পড়লে দারোয়ানকে বিষয়টি দেখতে বলেন। অভিনেতার কথায়, দারোয়ান গিয়ে দেখেন পরিচারিকা তাঁর ঘর পরিষ্কার করছেন। তখন দারোয়ান তাঁকে জিজ্ঞেস করেন আংটি দেখেছেন কি না। মহিলার উত্তর ছিল, “আমি জানি না।” সম্রাটের দাবি, কিছুক্ষণ পর বিছানাতেই একটি আংটি পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বিতীয় আংটিটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই সন্দেহ বাড়তে থাকে বলে জানান অভিনেতা।

সম্রাট মুখার্জি আরও বলেন, তাঁর বাড়িতে দারোয়ান ও বাচ্চার দেখাশোনার জন্য আলাদা লোক থাকলেও তাঁরা কেউ তাঁর ঘরে ঢোকেন না। শুধুমাত্র ওই পরিচারিকাই ঘর পরিষ্কার করতে ঢুকতেন। তাঁর দাবি, দারোয়ান ও পরিচারিকার মধ্যে আংটি নিয়ে বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি বাড়িতে ফেরেন। অভিনেতার বক্তব্য, “ফিরে এসেও দেখছি মহিলাকে আটকে রাখা যাচ্ছে না৷ বারবার বলছেন আমি বেরিয়ে যাব। আমার কাছে আংটি নেই৷ এই সময় ধাক্কাধাক্কিতে পা পিছলে পড়ে যান৷ তখন কিছুটা আঘাত পান।” সম্রাট জানান, তিনি পরিচারিকাকে বলেন পুলিশ না আসা পর্যন্ত বাড়ি থেকে যেতে পারবেন না। এরপর হরিদেবপুর থানায় খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদও করে। মহিলা পুলিশও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি অভিনেতার।

আরও পড়ুনঃ প্রয়াত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তী! মাত্র কয়েক আগে ‘সুন্দরী’র সঙ্গে হাসিমুখে ভিডিয়ো পোস্ট, আচমকা মৃ’ত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য, মানতে পারছেন না অনুরাগীরা! সদ্য এলএলবি পাশ, জানেন কী হয়েছিল তাঁর? কেনই বা আ’ত্মঘা’তী হলেন তিনি?

অভিনেতার কথায়, এই মাসেই তাঁর শাশুড়ির হার চুরি হয়েছিল, তাই আগের ঘটনার কারণেও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তিনি জানান, পুলিশ পরিচারিকার তল্লাশি করে এবং এমনকি আংটি ফেরত দিলে পুরস্কার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুই মেলেনি বলে দাবি সম্রাটের। এরপর তিনি থানায় এফআইআর করেন। সম্রাট মুখার্জির বক্তব্য, “আমি এফআইআর করার পর উনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে হরিদেবপুর থানায় একদল লোকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে যান৷” আরও বলেন, “চোরের মায়ের বড় গলা৷ সম্পূর্ণ ঘটনার জন্য আমাকে দায়ী করল, মিথ্যে কথা বলল যে আমরা ওকে মেরেছি।” তাঁর দাবি, পালাতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যাওয়ার কারণেই আঘাত লাগে মহিলার। অভিনেতার আরও সংযোজন, “খুব শখের বহুমূল্য আংটি তাই হাতজোড় করে বলেছিলাম নিয়ে থাকলে ফেরত দিয়ে দিন৷ আমরা আপনাকে পুলিশে দেব না৷” তবে এখনও পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া দ্বিতীয় আংটিটি উদ্ধার হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি।

You cannot copy content of this page