“মা’রা গিয়েছে ও, আমি হাত ধরে অনেকক্ষণ বসেছিলাম…অনেক ক’ষ্ট পেয়েছে” প্রিয়জনকে হারিয়ে গভীর শো’কে অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা! কা’ন্নাভেজা কন্ঠে জানালেন শেষ মুহূর্তের কথা!

অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতার জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের অত্যন্ত কাছের একজন মানুষকে হারিয়েছেন তিনি। প্রয়াত হয়েছেন তাঁর প্রিয় পিসি, যাঁকে ছোটবেলা থেকেই নিজের মায়ের মতোই ভালোবাসতেন অভিনেত্রী। পরিবারের এই মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন সায়ন্তনী। কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা যে কতটা গভীর হতে পারে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সবাই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রীও।

সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সায়ন্তনী। কান্নাভেজা গলায় তিনি জানান, “মাম্মাম আমার পিসিমণি। আমার ছোটবেলায় প্রথম মা ডাক তাঁকেই।” অভিনেত্রীর এই কথাতেই বোঝা যায়, তাঁর পিসির সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল। পরিবারের মধ্যে এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো রক্তের সম্পর্কের বাইরেও আলাদা জায়গা তৈরি করে নেয়। সায়ন্তনীর জীবনেও তাঁর পিসিমণি ঠিক তেমনই একজন মানুষ ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর কাছে ভালোবাসা ও স্নেহ পেয়েছেন অভিনেত্রী। তাই এই মৃত্যু সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

পিসির অসুস্থতা নিয়েও কথা বলেছেন সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা। অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়ালিসিস চলছিল তাঁর পিসির। শারীরিক অবস্থাও ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছিল। শেষ কয়েকটা দিন খুব কষ্টের মধ্যেই কাটছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সায়ন্তনীর কথায়, “ডায়ালিসিস চলছিল। খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। শেষ সময়ে আমার হাত ধরেছিল।” পরিবারের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। প্রিয়জনের শেষ মুহূর্তের সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে অভিনেত্রীকে।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের কথাও ভাগ করে নিয়েছেন সায়ন্তনী। তিনি বলেন, “যখন মারা গিয়েছেন আমি হাত ধরে অনেকক্ষণ বসেছিলাম।” এই কথার মধ্যেই ধরা পড়েছে তাঁর গভীর মানসিক যন্ত্রণা। খুব কাছের কাউকে হারালে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। অভিনেত্রীর বর্তমান মানসিক অবস্থাও তেমনই। পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গেই এখন সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই মুহূর্তে খুব বেশি সক্রিয় নন সায়ন্তনী। ব্যক্তিগত এই দুঃসময়ে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ “দেখেছেন গার্হস্থ্য হিং’সা বাবার অত্যা’চারে ছোটবেলা থেকেই গুটিয়ে গিয়েছিলেন….প্রচুর সম্পত্তির নেননি কানাকড়িও!” একাকীত্ব, মানসিক অব’সাদ গ্রা’স করেছিল পরিচালক অনীক দত্তকে? তাঁর জীবনের অন্ধ’কার অধ্যায় সামনে আনলেন মামাশ্বশুর

সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা মূলত মডেল হিসেবেই নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে প্রিন্ট মডেলিংয়ের দুনিয়ায় তিনি বেশ পরিচিত মুখ। তবে গত কয়েক বছরে অভিনয়ের দিকেও বেশি মন দিয়েছেন তিনি। বড়পর্দা থেকে ওয়েব সিরিজ, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। মডেলিংয়ের কাজের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানভাবে। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁর অনুরাগীরা পাশে রয়েছেন। প্রিয়জনকে হারানোর এই শোক কাটিয়ে তিনি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন, এমনটাই চাইছেন অনেকেই।

You cannot copy content of this page