টলিউডে গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনাকে ঘিরে ফের তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। বিশেষ করে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) রহস্যমৃ’ত্যুর পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা আর আতঙ্ক যেন বারবার সামনে আসছে। সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দু’মাসেরও বেশি সময়। রাজ্যে সরকারও বদলেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ঠিক এই আবহেই পরিচালক অনীক দত্তর (Anik Dutta) আ’ত্মহ’ত্যার ঘটনাও নতুন করে নাড়া দিয়েছে টলিপাড়াকে।
আর সেই দিনই সমাজ মাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করলেন অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu Kamal)। এদিন নিজের পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, “আজ আরেকটা ২৯ তারিখ। মাস দুয়েক আগের ২৯ তারিখের কথাটা নিশ্চয়ই মনে আছে!” এরপরেই তীব্র কটাক্ষের সুরে তিনি লেখেন, “ধুর..! ব্যাঙ মনে আছে। বাদ দিন এই সব কথা কেউ তোলে নাকি আবার, তাই না! দাদারা রাগ করে আর্টিস্ট লেলিয়ে দেবেন। তাই চুপ করে ঘাপটি মেরে থাকুন।” জিতুর এই কথাতেই স্পষ্ট, ইন্ডাস্ট্রির একাংশের নীরবতা নিয়ে তাঁর ক্ষোভ এখনও কমেনি। রাহুলের মৃত্যুর সময়ও বহু মানুষ সরাসরি মুখ খোলেননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই পুরনো ক্ষত যেন আবার সামনে চলে এল অনীক দত্তর মৃত্যুর পর।
পোস্টের আরও একটি অংশে জিতু লেখেন, “চলুন আজ শ্মশানে আবার দেখা হবে। কি আছে! এইভাবে প্রত্যেক মাসের ২৯ আসবে যাবে। সহজ তার বাবার মৃত্যুর কারণ জানতেও পারবে না।” এখানে রাহুলের ছেলে সহজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যেন এক অসহায় ভবিষ্যতের কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁর পোস্টে আরও ছিল, “অনীক দত্ত সুইসাইড করে মারা যাবেন। মানসিক রুগী বলে আমরা হাত ধুয়ে নেব। যদিও এটা আমার কাছে মানসিক ভাবে করা খুন।” এই মন্তব্য ঘিরেই এখন তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, অনীক দত্তর মৃত্যুর পিছনে শুধুই ব্যক্তিগত অবসাদ নয়, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও দায়ী করছেন অনেকেই।
জিতু আরও অভিযোগ করেন, “পূর্বতন সরকারের দেওয়া মানসিক যন্ত্রণা, ষড়যন্ত্র এর বিরুদ্ধে সেই সময় শিল্পীমহলের কেউই কোনও কথাই বলেনি। বরং সেই ঝান্ডাকে আরও উড্ডীয়মান করেছে গেছেন প্রতিনিয়ত শিল্পীমহলের সিংহভাগ।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ব্যক্তিস্বার্থের কারণে বহু শিল্পী অন্যায় দেখেও চুপ থেকেছেন। এমনকি তিনি নন্দন প্রসঙ্গ টেনেও লেখেন, “অকারণে একটা মানুষকে নন্দন থেকে কার্যত ব্যান করে রাখা হলো, কোনও মাথারাই কিন্তু কথা বলেনি।” যদিও বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার এসেছে, তবুও রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে এখনও বড় কোনও পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় হতাশা বাড়ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ ‘মমতাময়ী ইন্দ্রনীল!’ জোর করে মমতার লেখা গানে, আর নিজের সুরে শিল্পীদের গান গাইতে বাধ্য করতেন ইন্দ্রনীল সেন! প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফের উঠল অভিযোগ
পোস্টের শেষদিকে জিতু লেখেন, “নিজের ছবিটা চললেই হল, এই মানসিকতা নিয়ে সেদিনও তারা ছিল, আজও সেই মানসিকতা নিয়েই শ্রদ্ধা জানতে আসবেন তারা। আর,আমরা আবার আরেক নতুন ২৯-এ শ্মশানে গিয়ে দাঁড়াবো।” এই কথাগুলো এখন সমাজ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটা শুধুমাত্র একজন অভিনেতার আবেগঘন পোস্ট নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু থেকে অনীক দত্তর শেষযাত্রা, সবকিছুর মাঝখানে বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, সত্যিই কি কোনওদিন সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে?






