টেলিভিশন বা বিনোদন জগতে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই অনেক সময় গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। কখনও সেই সম্পর্ক পৌঁছে যায় বিয়ের মণ্ডপ পর্যন্ত, আবার কখনও মাঝপথেই থেমে যায় সুন্দর এক গল্প। টেলিউডের এমনই এক জনপ্রিয় জুটি ছিলেন অভিনেতা ফারহান ইমরোজ এবং অভিনেত্রী প্রত্যুষা পালের। পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন দর্শকদের মন জয় করেছিল, তেমনই বাস্তব জীবনেও তাঁদের প্রেম নিয়ে কম চর্চা হয়নি। কিন্তু হঠাৎই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। আজও তাঁদের বিচ্ছেদের আসল কারণ স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও, এই জুটিকে এখনও ভুলতে পারেননি অনেক দর্শক।
২০১৭ সালে ‘তবু মনে রেখো’ ধারাবাহিকে কাজ করতে গিয়েই কাছাকাছি আসেন ফারহান ও প্রত্যুষা। শুটিংয়ের ফাঁকে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্ব থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় প্রেম। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বলতেন, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে ছিল গভীর বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি অসম্ভব টান। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মাঝে মধ্যেই একসঙ্গে ছবি পোস্ট করতে দেখা যেত তাঁদের। দর্শকদের কাছেও তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন অন্যতম প্রিয় জুটি। অনেকে মনে করতেন, খুব শীঘ্রই হয়তো বাস্তব জীবনেও একসঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা।
তবে সম্পর্কের সেই সুন্দর সময় খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। প্রত্যুষার একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও তাঁদের সম্পর্ক একেবারে স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎই একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফারহান নাকি জানান, তিনি নিজের বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এরপরই কার্যত শেষ হয়ে যায় তাঁদের সম্পর্ক। ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আজও স্পষ্ট নয়। প্রত্যুষাও কখনও প্রকাশ্যে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের ধারণা ছিল, দুইজনের ভিন্ন ধর্মের কারণেই নাকি পরিবার থেকে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। যদিও এই নিয়ে কেউই সরাসরি মুখ খোলেননি।
সম্পর্ক ভাঙার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দুজনেই। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিচ্ছেদের পর ফারহান দীর্ঘদিন ডিপ্রেশনের মধ্যে ছিলেন। প্রত্যুষার অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে অভিনয় জগৎ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন তাঁরা। একসময় যাঁদের নিয়ে দর্শকদের এত উন্মাদনা ছিল, সেই জুটিকেই আর সেভাবে একসঙ্গে তো দূরের কথা, আলাদাভাবেও খুব একটা দেখা যায়নি। ২০২১ সালে প্রত্যুষা যখন সাইবার ক্রাইমের শিকার হন এবং ফারহানের সাহায্য চান, তখন অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কোনও যোগাযোগ নেই এবং তিনি আর এই বিষয়ে জড়াতে চান না।
আরও পড়ুনঃ “যাদের দেখে সবচেয়ে স্বাভাবিক মনে হয়, তারাই কি সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন?” পরিচালক অনীক দত্ত থেকে ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী, একের পর এক আ’ত্মঘা’তী হওয়ার ঘটনায় নেটদুনিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ! মানসিক অব’সাদে ভুগলেও কেন মুখ খুলতে পারেন না অনেকেই? এমন পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের কী করা উচিত?
বর্তমানে ফারহান ইমরোজকে প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বিনোদন জগৎ থেকে দূরে দেখা যায়। শুধু অভিনয় নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর উপস্থিতি কার্যত নেই বললেই চলে। অন্যদিকে প্রত্যুষাকে মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও, আগের মতো নিয়মিত কাজ করতে আর দেখা যায় না তাঁকে। তবুও টেলিউডের এই অসম্পূর্ণ প্রেমের গল্প আজও অনেকের মনে রয়ে গিয়েছে। কারণ, তাঁদের সম্পর্কের শেষটা যতটাই রহস্যে মোড়া হোক না কেন, একসময় তাঁদের ভালবাসা যে সত্যিই অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল, তা আজও অস্বীকার করার উপায় নেই।






