“ ছাত্রীর আ’ত্মহ’ত্যার জন্য আমাকে দায়ী করা হয়েছিল… পরিকল্পিতভাবে বদনাম করা হয়েছে” পরিচারিকা বিতর্ক থেকে ছাত্রীর মৃ’ত্যুর অভিযোগ, একের পর এক অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সম্রাট মুখার্জী! কেন এত অভিযোগ অভিনেতার বিরুদ্ধে?

বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন সবসময়ই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। পর্দায় তাঁদের সাফল্য, ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ কিংবা কোনও বিতর্ক সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় জনসমক্ষে। সামাজিক মাধ্যমে একবার কোনও অভিযোগ বা বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি ঠিক এমনই একাধিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে ফের শিরোনামে উঠে এসেছেন অভিনেতা সম্রাট মুখার্জী। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই অভিনেতা এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন তাঁর পরিচারিকা সংক্রান্ত বিতর্ক, দুর্ঘটনা মামলা এবং তাঁকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়ে।

কয়েক সপ্তাহ আগে সম্রাট মুখার্জীর বাড়ির এক পরিচারিকাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই মহিলাকে মারধর, হেনস্থা এবং আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে অভিনেতার বাড়িতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সম্রাটকে নিয়ে নানা কটাক্ষ ও সমালোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় তাঁর একটি দামি আংটি হারিয়ে যাওয়া থেকে। তাঁর কথায়, নাটকের মহড়ায় যাওয়ার সময় ভুলবশত বাড়িতে দুটি আংটি ফেলে গিয়েছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি মনে পড়তেই বাড়ির দারোয়ানকে ফোন করে আংটি দু’টি নিরাপদে তুলে রাখতে বলেন। সেই সময়ই নাকি সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে একটি আংটি উদ্ধার হয়, কিন্তু দ্বিতীয় আংটিটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সম্রাটের দাবি, বাড়ির নতুন পরিচারিকা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি এজেন্সির মাধ্যমে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দারোয়ান ও অন্য পরিচারিকা খোঁজাখুঁজির সময় নাকি তাঁর সামনে একটি আংটি হঠাৎই বিছানার উপর দেখা যায়, যা আগে সেখানে ছিল না। এরপর দ্বিতীয় আংটির খোঁজ করতে গেলে ওই মহিলা উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন অভিনেতা। তিনি জানান, থানায় খবর দেওয়ার কথা শুনেই ওই পরিচারিকা পালানোর চেষ্টা করেন এবং সেই সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। সম্রাটের দাবি, কাউকে মারধর করা বা শারীরিক নির্যাতনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। বরং পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আংটি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চলে যায়। পরে তাঁর স্ত্রী ময়না মুখার্জী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই সম্রাট মুখার্জীর বিরুদ্ধে পাল্টা একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ করা হয়, তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা পরিচারিকাকে মারধর করেছেন, এমনকি যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও লেডিস হোস্টেল পরিচালনা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন। তাই এই ধরনের অভিযোগ তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, অনেকেই না জেনে, না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। ভবিষ্যতে যদি তদন্তে অন্য কোনও সত্য সামনে আসে, তাহলে সেই সমালোচকরা কি নিজেদের মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেতা।

এর মধ্যেই আরও একটি বিতর্কিত বিষয় মুখ খুলেছেন সম্রাট মুখার্জী। এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায়ও তাঁর নাম টেনে আনা হয় এবং বিভিন্ন মহলে তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। যদিও এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বরাবরই নিজের নির্দোষতার দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সত্য সামনে আসার আগেই অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার শুরু করে দেন। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি না জেনেই একজন মানুষের সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি মনে করেন, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের চেয়ে অনেক সময় গুজব ও অনুমান বেশি গুরুত্ব পায়, যার শিকার হতে হয় জনপরিচিত ব্যক্তিদের।

আরও পড়ুনঃ “আমাকে কেমন দেখতে লাগছে?” মৃ’ত্যুর দিন কয়েক আগে অনীক দত্তর প্রশ্ন! ভাইপোর শেষ সাক্ষাতের হাড়হিম করা স্মৃতি উস্কে দিলেন, কাকা জয় বিমল রায়! সামনে আনলেন প্রয়াত পরিচালকের ‘গোপন ডাইরি’!

সাক্ষাৎকারে সম্রাট মুখার্জী তাঁর সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার পর অনেকেই তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। কিন্তু চার্জশিটে তাঁর রক্ত পরীক্ষায় এক ফোঁটা অ্যালকোহলও পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তাঁর গাড়ির গতি নিয়েও যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ৫২ কিলোমিটার, যা প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। সব মিলিয়ে একের পর এক বিতর্ক, অভিযোগ এবং সমালোচনার মুখে পড়েও তিনি ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান। সম্রাটের দাবি, সত্য একদিন প্রকাশ্যে আসবেই, আর সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি নিজের কাজ ও জীবনের পথে এগিয়ে চলেছেন।

You cannot copy content of this page