বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’ এবং ‘দাদাগিরি’ বহু বছর ধরেই দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম ভরসা। সময়ের সঙ্গে এই দুই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায়ও পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে ‘দিদি নম্বর ১’-এর নতুন সিজন। একইভাবে ‘দাদাগিরি’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম নয়। তবে এবার এই দুই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের সম্প্রচার নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। সেই প্রভাব পড়তে পারে একাধিক জনপ্রিয় শো এবং ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়েও।
একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করা টেকনিশিয়ানদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক এখনও মেটানো হয়নি। প্রথমে জানানো হয়েছিল, গত ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত পাওনা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, টেকনিশিয়ানদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত বকেয়া না মেটানো হলে ১ অগাস্ট, শনিবার থেকে তাঁরা কোনও প্রজেক্টেই কাজ করবেন না।
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি বা দুটি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। স্টুডিওপাড়ার বিভিন্ন গিল্ড এবং বিভাগ নিয়ে গঠিত অস্থায়ী ওয়ার্কিং কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। টেকনিশিয়ানদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক আটকে থাকলেও বারবার শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনও সমাধান হয়নি। সেই কারণেই তাঁরা এবার কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, বহুদিন ধরে কাজ করেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার মুখে পড়ছেন বহু কর্মী এবং তাঁদের পরিবার।
এই কর্মবিরতি কার্যকর হলে শুধু ‘দিদি নম্বর ১’ বা ‘দাদাগিরি’ নয়, একাধিক ধারাবাহিক, রিয়্যালিটি শো, নন ফিকশন অনুষ্ঠান এবং প্রোমোর শ্যুটিংও থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রজেক্টের টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে। শুধু শ্যুটিং ইউনিট নয়, বিভিন্ন ফিকশন সেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত মডেলার, পেন্টার এবং অন্যান্য কর্মীরাও এখনও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। এমনকি ‘দাদাগিরি’-র সেটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মীর পারিশ্রমিকও দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ ‘এই গান কেউ শুনবে না!’ কোনওমতেই তিনি গাইতে চাননি ‘এমন একটি ঝিনুক’, সেই অনীহাই কীভাবে তৈরি করেছিল বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাস? নির্মলা মিশ্রের অজানা গল্প আজও অবাক করে!
ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে এখন টলিপাড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। যদি দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের শ্যুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত সমাধান কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখন সকলের নজর প্রযোজনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বকেয়া পারিশ্রমিক মিটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।






