কুমার শানুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোই হয়েছিল কাল! ভেঙে যায় সংসার, দুরন্ত অভিনয় জীবন ও তারকাখ্যাতির মধ্যগগনে থেকেও আচমকা অন্তর্ধান ! আজ কোথায় নব্বই দশকের সেই সুপারস্টার নায়িকা? কীভাবে কাটাচ্ছেন জীবন?

বিনোদন জগতে সাফল্য পাওয়া যতটা কঠিন, সেই সাফল্য দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা তার থেকেও কঠিন। প্রতি বছর অসংখ্য নতুন মুখ রূপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেন। আবার অনেকেই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেও হঠাৎ করে আলো-ঝলমলে দুনিয়া থেকে দূরে সরে যান। তাঁদের জীবন ঘিরে তৈরি হয় রহস্য, কৌতূহল এবং নানা জল্পনা। ঠিক এমনই এক অভিনেত্রী হলেন বলিউডের নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ মীনাক্ষী শেষাদ্রি। একসময় যাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য এবং নাচে মুগ্ধ ছিল গোটা দেশ, আজ তিনি বলিউড থেকে বহু দূরে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন।

১৯৬৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডের এক তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মীনাক্ষী শেষাদ্রি। তাঁর আসল নাম শশিকলা শেষাদ্রি। ছোটবেলা থেকেই ভারতনাট্যম, কুচিপুড়ি, কথক এবং ওডিসি, ধ্রুপদী নৃত্যে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতে নজর কেড়েছিলেন সবার। এরপর ১৯৮৩ সালে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। তবে প্রথম ছবি ‘পেইন্টার বাবু’ তাঁকে তেমন সাফল্য এনে দিতে পারেনি। কিন্তু পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। জ্যাকি শ্রফের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর একের পর এক সফল ছবি তাঁকে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় জায়গা করে দেয়।

‘বেওফাই’, ‘শাহেনশাহ’, ‘ঘায়েল’, ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ কিংবা ‘ঘাতক’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ১৯৯৩ সালের ‘দামিনী’ তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রতিবাদী নারীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও বলিউডের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। শোনা যায়, সন্তোষী তাঁকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু মীনাক্ষী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। যদিও তাঁরা পরবর্তীতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন, তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়াননি।

এদিকে নব্বইয়ের দশকে সংগীতশিল্পী কুমার শানুর সঙ্গে মীনাক্ষীর নাম জড়িয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। মহেশ ভাট পরিচালিত ‘জুর্ম’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘যব কোই বাত বিগড় যায়ে’-এর সূত্র ধরেই তাঁদের পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় কুমার শানু বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর সংসারও ছিল। কিন্তু বলিউডে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে কুমার শানুর তৎকালীন সচিব প্রকাশ্যে দাবি করেন যে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মীনাক্ষী শেষাদ্রির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ১৯৯৪ সালে কুমার শানুর প্রথম স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় এবং সেই সময় এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই নানা বিতর্ক ছড়ায়। যদিও কুমার শানু বা মীনাক্ষী, কেউই প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।

Actress Life

আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর পরে পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সম্মান, অথচ বেঁচে থাকতে কপালে জুটেছিল শুধুই লাঞ্ছনা! ‘পথের পাঁচালী’র ইন্দির ঠাকরুন হয়ে আজও বাঙালির মননে তিনি অমর! নিষিদ্ধ পল্লির অন্ধকার গলিতে নিঃসঙ্গ জীবন, চুনীবালা দেবীর শেষে দিনেগুলির হৃদয়বিদারক গল্পটা জানেন?

ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকতেই ১৯৯৫ সালে আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হরিশ মাইশোরকে বিয়ে করেন মীনাক্ষী। বিয়ের পর ধীরে ধীরে অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ‘ঘাতক’ ছিল তাঁর শেষ উল্লেখযোগ্য ছবি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও নাচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তিনি ‘চেরিশ ড্যান্স স্কুল’-এর মাধ্যমে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন। বহুবার বলিউডে ফেরার প্রস্তাব এলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একসময় যিনি কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন, আজ তিনি আলো থেকে দূরে থেকেও নিজের ভালোবাসার শিল্পকে আঁকড়ে ধরে শান্ত, পরিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন।

You cannot copy content of this page