মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দফতরে আয়োজিত জনতার দরবারে উপস্থিত হন গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁরা সঙ্গীত জগতের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরতে যান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই শিল্পী স্পষ্ট জানান, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীত জগতে চলা কিছু অনিয়ম ও বঞ্চনার বিষয়ও তাঁরা সামনে আনতে চান বলে জানান।
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সেনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট কাজ করত। তাঁর অভিযোগ, এই চক্রে সিনিয়র, জুনিয়র এবং মাঝ বয়সী শিল্পীদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁদের কাছে বিভিন্ন তথ্য ও বিল রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। শুধু শিল্পীরাই নন, কয়েকজন সরকারি আধিকারিকও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঋদ্ধির কথায়, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণেই তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কার্যত কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দুই শিল্পী জানান, তাঁরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বহু বঞ্চিত শিল্পীর পক্ষ থেকেও কথা বলতে এসেছেন। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত কোনও লাভ বা সুবিধার জন্য তাঁরা এই পদক্ষেপ নেননি। বরং সঙ্গীত জগত থেকে লবি সংস্কৃতি এবং কাটমানির প্রথা বন্ধ হোক, সেটাই তাঁদের প্রধান দাবি। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। সেই সমস্ত বিষয়ই মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনতে চেয়েছেন বলে জানান।
কাটমানির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কিছু জুনিয়র শিল্পীকে একের পর এক সরকারি অনুষ্ঠানের কাজ দেওয়া হত, অথচ সেই শিল্পীরা অন্যত্র খুব একটা সুযোগ পেতেন না। তিনি বলেন, যাঁরা সাত বা দশটি অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক পেতেন, তাঁদের সেই অর্থের একটি অংশ ফেরত দিতে হত। তাঁর দাবি, যারা নিয়মিত ফোন করে যোগাযোগ রাখত, উপহার দিত, সময় দিত, সঙ্গ দিত এবং বিভিন্নভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখত, তারাই বেশি সুযোগ পেত। কিছু শিল্পী সরকারের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ বা সেটিংয়ের মাধ্যমে কাজ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ কুমার শানুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোই হয়েছিল কাল! ভেঙে যায় সংসার, দুরন্ত অভিনয় জীবন ও তারকাখ্যাতির মধ্যগগনে থেকেও আচমকা অন্তর্ধান ! আজ কোথায় নব্বই দশকের সেই সুপারস্টার নায়িকা? কীভাবে কাটাচ্ছেন জীবন?

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছিলেন ঋদ্ধি ও দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “এই বিষয় নিয়ে তাঁর কোনও মন্তব্য করাটাই আমার রুচিতে বাধে। আমি সেভাবে বড় হইনি।” যদিও অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জেরে বিষয়টি এখন সঙ্গীত মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গন, দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।






