‘নেতাদের পা চেটে অলিখিতভাবে ক্যাশে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন…ওই ৩-৪ লাখ টাকার হিসেব দিন!’ ‘তোষা’মোদ করেই অনুষ্ঠান পান, টাকার জন্য আপনি কি কি করতে পারেন জানা আছে!’ ইমন চক্রবর্তীকে নিয়ে প্রমাণ সহ একাধিক বি*স্ফোরক অভিযোগ মহিলার! তোলপাড় নেটপাড়া, পাল্টা আইনি লড়াইয়ের হুঁশি’য়ারি গায়িকার! ঠিক কী ঘটেছে?

সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা ইমন চক্রবর্তীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগেই নিজের বাড়িতে ধুমধাম করে জগন্নাথ পুজোর আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই পুজোয় দেবতার আসনের উপরে নিজের প্রয়াত মায়ের ছবি রাখার বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তখন ইমন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে বাবা-মাই ঈশ্বরের সমান। তাঁদের সম্মান করাকে তিনি কোনওভাবেই ভুল বলে মনে করেন না। তবে সেই বিতর্ক থামার আগেই এবার তাঁকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন এক মহিলা। সেই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজেই ভাগ করে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গায়িকা।

নবনীতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক মহিলা সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কেন জগন্নাথদেবকে ইমনের প্রয়াত মায়ের ছবির নীচে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এরপর তিনি লেখেন, “একটি সাক্ষাৎকারে এই মহান গায়িকা বললেন, জগন্নাথদেব, দুর্গা, কালী সকলের স্থান তাঁর বাবা-মায়ের নীচে। কারণ বাবা-মায়ের জন্যই তিনি পৃথিবীর আলো দেখেছেন। পড়াশোনার দৌড় কত জানি না, তবে শিক্ষা থাকলে এমন কথা বলা যায় কীভাবে?” এখানেই না থেমে তিনি আরও দাবি করেন, যাঁদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বছরের পর বছর অনুষ্ঠান পেয়েছেন, তাঁরাও নাকি ইমনের কাছে ঈশ্বরের চেয়ে বড়। তাঁর অভিযোগ, অর্থ উপার্জনই নাকি গায়িকার একমাত্র লক্ষ্য।

এরপর সেই পোস্টে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হয়। সেখানে লেখা হয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাকি লিখিত পারিশ্রমিকের বাইরে অলিখিতভাবে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি সেই অর্থের কতটা চেকে এবং কতটা নগদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সাধারণ মানুষের অর্থ থেকেই এই পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে লেখা হয়, কালীপুজোয় যাতায়াত এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অনুষ্ঠানের সুযোগ পাওয়া যেত। নতুন সরকার এসেও একইভাবে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন ওই মহিলা। তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়, “এরা কি সত্যিই এত টাকা পাওয়ার যোগ্য?”

এই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিয়ে ইমন চক্রবর্তী সরাসরি জবাব দেন। তিনি লেখেন, “অনেক হয়েছে। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে মুশকিল। এই মহিলা আমাকে ব্লক করে এই পোস্টটি করেছেন। যা যা বলেছেন, তার সবকিছুর প্রমাণ দিক। কোথায় কত টাকার গল্প উনি বলছেন, তার প্রমাণ তো আমার চাই। আর না হলে এবার একটু মুশকিল। হ্যাঁ, আমার কাছে আমার বাবা-মাই সবার আগে। আমার নাম করা যদি দোষের হয়ে যায়, তাহলে আমি বারবার করতে রাজি।” গায়িকার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ইমনের পোস্টের নীচে বহু অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়ান। এক নেটিজেন লেখেন, “মানুষ যখন নিজের পরিশ্রমে সফল হয়, তখন হিংসুক মানুষ নানা অভিযোগ তোলে। অন্যের কথায় দমে না গিয়ে নিজের কাজ করে যাও। জীবন্ত ঈশ্বর হলেন নিজের বাবা-মা, তাঁদের সম্মান করাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “যাদের সাহস নেই তোমাকে ব্লক না করে সমালোচনা করার, তাদের এত গুরুত্ব দিও না। এরা প্রয়োজনে নিজের কাছের মানুষদের বিরুদ্ধেও কথা বলবে।” সেই মন্তব্যের জবাবে ইমন লেখেন, “সবাই একটু দেখুক, রোজ কত কিছু সহ্য করতে হয়। মা-বাবাকে নিয়ে আক্রমণ করা বন্ধই হচ্ছে না।”

আরও পড়ুনঃ “সেদিন বাধ্য হয়েই ট্রে’ন থেকে ঝাঁ*প দিয়েছিলাম…” আজকে সাফল্যের মুখ দেখলেও অভিনয়জীবনের শুরুটা যে কতটা কঠিন ছিল, নিজের মুখেই সেই অজানা লড়া’ইয়ের গল্প শোনালেন অঞ্জনা বসু! ক্যামেরার সামনে দাপুটে, কিন্তু বাস্তবে অত্যন্ত নরম! একসময় তাঁকে কেন নিতে হয়েছিল এমন ভ’য়*ঙ্কর ঝুঁ*কি? জানলে চমকাবেন, অভিনেত্রীর জীবন যেন অনুপ্রেরণা!

এই ঘটনার পর ইমন চক্রবর্তীর পোস্ট এবং তাঁর প্রতিক্রিয়া ঘিরে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ গায়িকার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতও প্রকাশ করেছেন। তবে ইমন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও ভিত্তিহীন অভিযোগ তিনি আর চুপচাপ মেনে নেবেন না। প্রয়োজন হলে আইনি পথেও হাঁটতে প্রস্তুত তিনি। বাবা-মাকে নিয়ে করা আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান এখন সমাজমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page