“আমি হলাম অসুরের অবতার!” হঠাৎ কেন এমন দাবি সুদীপ মুখার্জির? নেপথ্যে ছোটবেলার কোন ঘটনা? সেনা পরিবারের ছেলে, শুধু অভিনয় নয়, জীবনদর্শনেও ব্যতিক্রমী! নিজের জন্মঘিরে অজানা ও অদ্ভুত কাহিনি প্রকাশ্যে এনে চমকে দিলেন অভিনেতা?

শিল্পীদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা থাকে, যা তাঁদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা এবং জীবনদর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, কাজের জগৎ সবকিছুরই ছাপ থেকে যায় একজন শিল্পীর মনে। কখনও সেই অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার, আবার কখনও সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয়। অভিনেতা সুদীপ মুখার্জির জীবনেও এমন বহু ঘটনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনা পরিবারের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা, ছোটবেলার নানা অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রতি তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।

অভিনেতা সুদীপ মুখার্জি এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে। বাবার কর্মসূত্রে জীবনের একটা বড় সময় বিভিন্ন জায়গায় কাটিয়েছেন তিনি। আর্মি কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা এবং ছোটবেলার নানা অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে জানান অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি থেকে অভিনয় জগতে আসার পথ, সিনেমার প্রতি আকর্ষণ এবং সমাজকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। তবে নিজের জন্মের ঘটনাকে ঘিরে একটি মজার এবং ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন সুদীপ।

তিনি জানান, তিনি সেপ্টেম্বরে জন্মেছিলেন দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায়, যখন চণ্ডীপাঠ চলছিল। সেই প্রসঙ্গেই মজা করে নিজেকে ‘অসুরের অবতার’ বলে উল্লেখ করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল বলেই তিনি নিজেকে অসুরের অবতার বলে ভাবতেন। এমনকী ছোটবেলায় তাঁর মনে হত, হয়তো দশমীর দিন তাঁর ‘তিরোভাব’ও হয়ে যাবে। যদিও পুরো বিষয়টিই তিনি হাস্যরসের সঙ্গে বলেছেন। সমাজ নিয়ে বলতে গিয়ে অবশ্য যথেষ্ট তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন সুদীপ। তাঁর মতে, ছোটবেলায় সেনা কমপ্লেক্সে যে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ দেখেছেন, শহরের সাধারণ জীবনে তার সঙ্গে অনেক সময় বড় পার্থক্য চোখে পড়ে।

তাঁর বক্তব্য, নাগরিক জীবনে অনেকেই শুধু নিজের কথা ভাবেন। যেখানে সেখানে থুতু ফেলা, রাস্তা নোংরা করা, খাবারের কাগজ বা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে দেওয়া এই ধরনের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, মুখে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় বাংলা’ বা ‘জয় হিন্দ’ বললেই দেশপ্রেম প্রকাশ পায় না। জাতীয় পতাকা তোলা বা জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাও দেশপ্রেমের অংশ। সেনা পরিবেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে কাউকে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে শাসন করতে হয় না, বরং শৃঙ্খলা মানুষের চরিত্রের অংশ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র নিয়ম মানার বিষয় নয়, বরং ‘মানসিকতার পার্থক্য’।

আরও পড়ুনঃ ‘নেতাদের পা চেটে অলিখিতভাবে ক্যাশে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন…ওই ৩-৪ লাখ টাকার হিসেব দিন!’ ‘তোষা’মোদ করেই অনুষ্ঠান পান, টাকার জন্য আপনি কি কি করতে পারেন জানা আছে!’ ইমন চক্রবর্তীকে নিয়ে প্রমাণ সহ একাধিক বি*স্ফোরক অভিযোগ মহিলার! তোলপাড় নেটপাড়া, পাল্টা আইনি লড়াইয়ের হুঁশি’য়ারি গায়িকার! ঠিক কী ঘটেছে?

এই প্রসঙ্গেই নিজের খোলা বারান্দার প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। ছোটবেলায় আর্মি কমপ্লেক্সের পঞ্চম তলায় থাকতেন তিনি এবং সেখানকার খোলা বারান্দা থেকে রেসকোর্সের ঘোড়দৌড় দেখতেন। সেই সময়ের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে। তাই এখনও গ্রিল দেওয়া বারান্দা তাঁর পছন্দ নয়। তাঁর মনে হয়, গ্রিলের মধ্যে থাকলে যেন খাঁচার মধ্যে বন্দি হয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর কাছে খোলা বারান্দা শুধু বাড়ির একটি অংশ নয়, বরং স্বাধীনতার অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতি। ছোটবেলার সেই খোলা পরিবেশ, সেনা পরিবারের শৃঙ্খলা এবং পরবর্তী জীবনে সমাজকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়েই আজকের সুদীপ মুখার্জির চিন্তাভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page