বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফেরালেও সম্মানে ব্রাত্য অঞ্জন চৌধুরী! “মা-মাটি-মানুষের সরকারের তরফ থেকেও বাবাকে নিয়ে ভাবা হয়নি” বাবা প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন কন্যা রীণা চৌধুরী!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এমন বহু শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলী রয়েছেন যাঁদের অবদান আজও দর্শকদের মনে অমলিন। তাঁদের হাত ধরেই বাংলা সিনেমা একসময় সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের অবদান যেন ধীরে ধীরে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের কাজের মূল্যায়ন থাকলেও সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সেই সম্মান সবসময় প্রতিফলিত হয় না। ফলে বহু শিল্পীর পরিবার আজও মনে করে, তাঁদের প্রিয় মানুষটির প্রাপ্য সম্মান এখনও মেলেনি। সম্প্রতি ঠিক এমনই আক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা রীণা চৌধুরী।

বাংলা বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাসে অঞ্জন চৌধুরী এক অনন্য নাম। পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে একের পর এক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরিচালিত বহু ছবি সেই সময়ে বক্স অফিসে রেকর্ড গড়েছিল। এমনও সময় ছিল যখন তাঁর ছবি প্রেক্ষাগৃহে টানা ২০০ দিনেরও বেশি চলেছে। বাংলা সিনেমাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও স্মরণ করেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। ২০০৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই প্রখ্যাত পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার প্রয়াত হন। কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁকে ঘিরে পরিবারের মনে রয়ে গেছে একরাশ অভিমান।

সম্প্রতি বাবাকে নিয়ে মুখ খুলেছেন অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা রীণা চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও তাঁর বাবাকে সেইভাবে কোনও সরকারি সম্মান জানানো হয়নি। শুধু তাই নয়, অঞ্জন চৌধুরীর জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতেও সরকারি স্তরে কোনও বিশেষ উদ্যোগ বা স্মরণ অনুষ্ঠান দেখা যায়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এত বড় অবদান থাকা সত্ত্বেও তাঁর বাবাকে নিয়ে প্রশাসনের এই নীরবতা তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও জানিয়েছেন রীণা।

রীণা চৌধুরী বলেন, তাঁদের পরিবারের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ অবশ্যই রয়েছে। তবে সেই ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া তাঁদের আর কিছু করার নেই। তাঁর কথায়, “ক্ষোভ তো রয়েছে, কিন্তু কিছু করার নেই। আমরা তো এখন গিয়ে গিয়ে বলতে পারব না যে বাবাকে পুরস্কার দিন বা সম্মান দিন।” তাঁর মতে, একজন শিল্পী বা পরিচালকের কাজই তাঁর পরিচয় বহন করে এবং সেই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত সমাজ ও প্রশাসনের তরফ থেকে। বিশেষ করে যাঁরা বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ ‘বিজেপি জিতেছে বলে, এবার তৃণমূল জিতলে আমিই ব্যান হয়ে যেতাম!’ যাঁরা মাথা উঁচু করে ছিল, আজ তাঁদের মুখে হাসি! স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর বি’স্ফোরক দেব!

রীণা চৌধুরীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই আবারও শুরু হয়েছে শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান নিয়ে আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অঞ্জন চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, যাঁর ছবি একসময় বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল, তাঁর প্রতি কি সত্যিই যথাযথ সম্মান দেখানো হয়েছে? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্মৃতির তালিকায় চলে যাচ্ছেন বাংলা সিনেমার সেই স্বর্ণযুগের নির্মাতারা? রীণা চৌধুরীর বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

You cannot copy content of this page