‘জানতাম বিজেপিই আসবে! কে কোথায় দাঁড়িয়েছে সেটা ম্যাটার করেনি, মানুষ চারটে মুখ আর পদ্মফুল চিহ্ন দেখেই ভোট দিয়েছে!’ ‘এবার আমরা নিশ্চিত যে আপনিও পদ্মফুলেই টিপেছেন!’ তৃণমূলের হারের ব্যাখ্যা দিতেই রচনাকে কটাক্ষ নেটপাড়ার!

টলিউড অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rachana Banerjee) বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতেও সক্রিয়ভাবে মন্তব্য করে থাকেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আরজি কর কাণ্ডকে ঘিরে একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি সাক্ষাৎকারকে ঘিরে তিনি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের নির্বাচনী হারের প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং সেখানেই তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় সাম্প্রতিক ভোটে তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে। এর উত্তরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির চার নেতার মুখ দেখে ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই চারজনের মুখের দিকে তাকিয়েই ভোট দিয়েছে। সত্যি কথা বলতে, এবারের ভোটের পর আমার এটা মনে হলো যে এবারের যে ধুয়ে দেওয়ার মতো ভোট হয়েছে এটার পেছনে চারটে মুখ আছে। আমি সত্যি কথাই বলছি, জানি না এতেও ট্রোল হবো কিনা। কিন্তু এত জায়গায় যে এতজন বিধায়ক ছিল, অনেকেই কিন্তু জানতেন না কাকে ভোট দিতে চলেছেন। সবাই বোতামটা টেপার আগে পদ্মফুল সাইনটা দেখেছে, সেই সঙ্গে এই চারটে মুখের কথা মনে করেছে।

প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত সাহ, শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যকে দেখেই ভোট দিয়েছে সবাই। বাকি কিন্তু আমার মনে হয় না এত জায়গায় বিধায়করা যে দাঁড়িয়েছিলেন লোকে তাদের চিনতেন। সবাই দেখেছে কোথায় পদ্মফুল আর টিপে দিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা। এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রভাব কমে গেছে বলে তিনি মনে করেন? এই প্রশ্নের জবাবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “বিষয়টা তেমন নয়।

কিন্তু যখন একটা ঝড় আসে, আর মানুষের মনে ঢুকে যায় যে আমরা কিচ্ছু চিনি না শুধু পরিবর্তন চাই, তখন কিছু করার থাকে না। আমরা নিজেরাই এটা বুঝতে পারিনি, কারণ রাস্তায় যখন নামতাম লিখতাম লাখ লাখ লোক, হাজার হাজার লোক আমাদের সঙ্গে হাঁটছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এত জায়গায় প্রচার করেছি, এখন ভাবি মনে মনে যে কত জায়গায় প্রচারে গিয়ে রাস্তায় অগুন্তি মানুষের মাথা দেখেছি শুধু। তাদের তাহলে মনে এক ছিল আর মুখে এক ছিল! সামনে শুধু আমাদের সমর্থক হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু মনে ছিল পদ্মফুলেই ভোট দেব!

আমি বলছি না যে কিছু গন্ডগোল হয়নি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। হতে পারে ভোট চুরি, কিন্তু পুরোটাই কি তাই? মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। মানুষের মধ্যে অনেক ক্ষোভ জমেছিল, সেটাই হয়তো এভাবে সামনে বেরিয়ে এসেছে।” তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রচনার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক বাস্তবতার বিশ্লেষণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘দাদার নির্দেশ’ই শেষ কথা! কেবল ব্যবসা থেকে রাতারাতি ক্ষমতার শীর্ষে, ‘গুপি শুটিং’ থেকে ‘ব্যান কালচার’-এর প্রবর্তক! টলিউডে কীভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস? ‘অলিখিত সম্রাট’-এর উত্থান হয় কীভাবে, প্রভাব ছড়িয়েছিল কতদূর?

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও নিয়ে নানান ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “কুইন্টাল কুইন্টাল ভোট পড়েছে…সময় বুঝে বিজেপি তে লাইন লাগাচ্ছে।” অন্যজনের কথায়, “দেরিতে হলেও বুদ্ধি খুলেছে। হেরে গেছেন ঠিক আছে এবার উৎসবে ফিরুন।” একজন আবার বলেছেন, “বাংলার দশ হাজার কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে…কি কনফিডেন্স মাইরি, উনি জানেনই যে উনি যাই বলুন না কেন ট্রল হবেন, তবুও বলছেন!” অধিকাংশ মানুষই ব্যাঙ্গ করে বলছেন, “আপনার কথাবার্তা শুনে নিশ্চিত যে আপনিও বিজেপিতে ভোট দিয়েছিলেন? আপনিও কি এই চার জনকে দেখেই পদ্মফুলে টিপেছেন?” এক কথায় এক দিকে আইনি অভিযোগ অন্যদিকে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে অভিনেত্রী এখন চর্চায়।

You cannot copy content of this page