“কাজ করতে হলে ক্ষমা চাইতে হতো, তাঁদের কথামতো না চললে কাজ মিলত না” বি’স্ফোরক প্রবীণ পরিচালক সুদেষ্ণা রায়! দুই বছর কাজ বন্ধ, ছবির স্ক্রিনিং আটকে দেওয়া ও শিল্পীদের মুখ বন্ধ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ করলেন তিনি!

তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার বিনোদন জগতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কাজের সুযোগ এবং সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রভাব ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। প্রকাশ্যে খুব কম মানুষই মুখ খুললেও, সরকার পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনতে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy), যিনি সম্প্রতি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বাংলার বিনোদন জগতের একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতার কথা সামনে এনেছেন।

সুদেষ্ণা রায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ। পরিচালক, অভিনেত্রী এবং লেখিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলা সিনেমায় কাজ করে আসছেন। পরিচালক অভিজিৎ গুহের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি একাধিক জনপ্রিয় ও প্রশংসিত ছবি নির্মাণ করেছেন। ‘শুধু তুমি’, ‘ক্রস কানেকশন’, ‘তিন ইয়ারি কথা’, ‘বাপি বাড়ি যা’-র মতো ছবির মাধ্যমে এই পরিচালক জুটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। তাঁদের ছবিতে শহুরে সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা এবং সমসাময়িক জীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বহু জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের পরিচালিত ছবিগুলির সঙ্গে। ফলে সুদেষ্ণা রায়ের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের মুখে এমন অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুদেষ্ণা রায় দাবি করেন, তাঁকে প্রায় দুই বছর কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, তাঁর পরিচালিত ছবির স্ক্রিনিং পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুদেষ্ণার কথায়, সেই সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যে অনেক প্রযোজক তাঁর সঙ্গে কথা বলতেও ভয় পেতেন। বহু মানুষ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ‘ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার’ পরামর্শ দিলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ঝামেলাই ছিল না। বরং যখনই কোনও বিষয়ে ফেডারেশন বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অবস্থানের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করা হতো, তখনই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো বলে তাঁর অভিযোগ।

সুদেষ্ণা আরও দাবি করেন, বর্তমান সময়ে যাঁরা নিজেদের অবস্থান বদলেছেন, তাঁদের অনেকেই অতীতে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি অনেক আগেই এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁদের বলা হতো, সংগঠনের সঙ্গে থাকতে হলে সংগঠনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে, নেতৃত্বের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাঁদের মত অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অন্যথায় কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত বলে অভিযোগ করেছেন এই পরিচালক।

আরও পড়ুনঃ বিনোদন জগতে ফের উদ্বেগ! ভেন্টিলেটরে জাতীয় পুরস্কারজয়ী বর্ষীয়ান অভিনেতা! শনিবার সকালেই আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয় হাসপাতালে! প্রার্থনায় অনুরাগীরা, কী হয়েছে অভিনেতার?

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ হিসেবে সুদেষ্ণা রায় বলেন, অনেক শিল্পীকে জোর করে নির্দিষ্ট ধরনের ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কথা বললেই কাজ কেড়ে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পর আবারও বাংলার বিনোদন জগতের অতীত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একের পর এক শিল্পী ও কলাকুশলীর মুখে উঠে আসা এই অভিযোগগুলি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

You cannot copy content of this page