‘আমি ‘সুরুচির অরূপদা’কে ভাইফোঁটা দিয়েছি, অরূপ বিশ্বাস আমাকে বোনের মতো দেখেন’ বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বড় মন্তব্য অপরাজিতার! ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’দের অনুষ্ঠানের নিয়মিত মুখ, আজ স্বরূপ বিতর্কে সরব! কেন নিজেকে কাঠগড়ায় দেখতে নারাজ তিনি?

স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্ক এবং তাঁর গ্রেপ্তারির পর টলিপাড়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর প্রভাব ছিল টলিউডে। সেই কারণেই স্বরূপ বিশ্বাসের পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসকেও ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে অরূপ বিশ্বাসের আয়োজিত ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানের কিছু পুরনো ছবি। সেই ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে অপরাজিতা আঢ্য, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক অভিনেত্রীকে। ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে ট্রোল এবং নানা মন্তব্য। বিশেষ করে অপরাজিতা আঢ্যকে ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী নিজেই। অপরাজিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাসকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, “আমি আর আমার দাদা যেমন এক মানুষ নই, তেমনই অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাসও দু’জন আলাদা মানুষ। দু’জনের দর্শনও আলাদা।” তিনি জানান, ২০০০ সালে একটি পুজো পরিক্রমার সময় অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখন অরূপ বিশ্বাস কোনও মন্ত্রী ছিলেন না। অভিনেত্রীর ভাষায়, “তখন উনি ‘সুরুচির অরূপদা’ ছিলেন।” সেই সময় থেকেই তাঁদের পরিচয় এবং যোগাযোগ রয়েছে। প্রতি বছর পুজোর সময় দেখা হত এবং দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্ক এখনও বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে অপরাজিতা বলেন, “যে ছবিটা নিয়ে ট্রোল হচ্ছে, সেটা ২০১৩ সালের ছবি।” তাঁর দাবি, ২০১২ সালে অরূপ বিশ্বাস ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান শুরু করার পর থেকেই নিয়মিত তাঁকে নিমন্ত্রণ জানানো হত। অভিনেত্রী জানান, “অপা তুই কিন্তু আমার বোন, ফোঁটাটা দিয়ে যাস।” এমন অনুরোধ তিনি বহুবার পেয়েছেন। এমনকি গত বছরও অরূপ বিশ্বাস তাঁকে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ফোন করেছিলেন। অপরাজিতার কথায়, “তুই অনেক বছর আসিস না, আমার কিন্তু খুব অভিমান হয়েছে, এবছর তুই কিন্তু আসবি।” এরপরও দু-তিনবার ফোন করে অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সেই কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “আজকে যদি ইন্ডাস্ট্রির কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেটা স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তো নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই অতীতে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গেই আলোচনা করেছেন। অপরাজিতার বক্তব্য, “ইন্ডাস্ট্রির বহুলোক তো বলেছে যে, যাবতীয় সমস্যা নিয়ে আমরা অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গেই কথা বলেছি।” পাশাপাশি তিনি সেই বহুল প্রচলিত কথারও উল্লেখ করেন যেখানে বলা হত, “স্বরূপ, দাদা অরূপের কথা শোনে না।”

অভিনেত্রীর মতে, এই বিষয়টি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল এবং তাই দুই ভাইকে একইভাবে বিচার করা উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। তিনি বলেন, “আমি তো অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দিয়েছি, কেউ ছবি দেখাতে পারবে যে আমি স্বরূপকে ফোঁটা দিয়েছি? বা তার সঙ্গে গল্প করছি বা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছি?” অভিনেত্রী আরও জানান, “২০১৬, ২০২১ সালে যেমন প্রস্তাব এসেছিল, তেমন ২০২৬ সালেও আমার কাছে প্রস্তাব আসে।” তবে তিনি কোনওবারই রাজনীতিতে যোগ দেননি।

আরও পড়ুনঃ “২০২২ সালেই ‘অপরাজিত’ মুক্তি পেলে অনীক দত্তকে আক্ষেপ বুকে নিয়ে পৃথিবী ছাড়তে হতো না” নন্দনে আবেগঘন মুহূর্তে জিতু কমল! বেঁচে থাকতেই মানুষকে সম্মান দেওয়ার বার্তায় আর কী বললেন অভিনেতা?

তাঁর কথায়, “আমি নিইনি, কারণ আমি রাজনীতির মানুষ নই। রাজনীতি আমি পছন্দ করি না। আমি সেটা করব না বলেই এবছর, তার আগের বছর কিংবা তারও আগে কোনও কালেই তৃণমূলের টিকিট নিইনি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ২০২১ সালে অরূপ বিশ্বাস তাঁকে বলেছিলেন, “দিদি কিন্তু চাইছে।” আবার তিনিই পরে সতর্ক করে বলেছিলেন, “অপরাজিতা তুই সহজ-সরল মানুষ কোনওদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়াবি না। রাজনীতি তোর জন্য নয়।” তাই অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও, “তার মানে তো এই নয় যে, স্বরূপ বিশ্বাসকে আমি সমর্থন করি” বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page