তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সকালে খবর আসে, সুখেন্দু শেখর রায়ের পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। বুধবার তিনি সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ ছেড়ে দেন। এরই মধ্যে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম। সূত্রের দাবি, দলের একাংশের ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদদের যে তালিকা তৈরি হয়েছে, সেখানে সায়নীও স্বাক্ষর করেছেন। ফলে তৃণমূলের ভিতরে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি ঘিরে দলীয় মহলেও কৌতূহল বাড়ছে।
সোমবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তৃণমূলের একদল অসন্তুষ্ট সাংসদের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়। বৈঠকের পর তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্রের দাবি। খবর অনুযায়ী, ওই চিঠিতে মোট ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। সেই তালিকাতেই সায়নী ঘোষের নাম রয়েছে বলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সায়নী। তাঁর নীরবতা রাজনৈতিক মহলে আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক শিবিরগুলির।
ঘটনার তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ সম্প্রতি দলীয় সাংগঠনিক রদবদলের সময় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব ফের সায়নী ঘোষের হাতেই তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক দায়িত্বেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে। তাই তাঁর নামকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সায়নীর সাংগঠনিক দায়িত্ব ক্রমশ বেড়েছে। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি সংসদে পৌঁছন। এরপর রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করতেন, রাজনৈতিক উপস্থাপনা এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাঁচ অনুসরণ করছেন। সাদা শাড়ি ও সাধারণ পোশাকের উপস্থিতির কারণে তাঁকে নিয়ে নানা রাজনৈতিক মন্তব্যও শোনা গিয়েছে। দলের তরুণ মুখ হিসেবে তিনি দ্রুত পরিচিতি অর্জন করেন। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “অভিষেকের লাইফস্টাইল চোখে লাগার মতোই…যেখানে হাত দিচ্ছি সেখানেই দুর্নী’তি!” “ভুল ধরিয়ে দিলেই উনি বলতেন, তোমাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে” বিদ্রোহী তৃণমূলে নাম লেখাতেই, মমতার তৃণমূল নিয়ে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন শতাব্দী রায়!
অন্যদিকে সায়নী ঘোষকে ঘিরে অতীতেও একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে তাঁর শেয়ার করা ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে একসময় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিরোধীদের আক্রমণের মুখে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিতর্ক সত্ত্বেও দলের মধ্যে তাঁর গুরুত্ব কমেনি বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর নাম ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সায়নী বা দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী বক্তব্য আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।






