“অভিষেকের লাইফস্টাইল চোখে লাগার মতোই…যেখানে হাত দিচ্ছি সেখানেই দুর্নী’তি!” “ভুল ধরিয়ে দিলেই উনি বলতেন, তোমাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে” বিদ্রোহী তৃণমূলে নাম লেখাতেই, মমতার তৃণমূল নিয়ে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন শতাব্দী রায়!

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষের সুর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং নেতারা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। কেউ দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। আবার কারও অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও তাঁরা পাননি। এই আবহেই দলের প্রাক্তন সাংসদ শতাব্দী রায়ের একাধিক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। শুধু দল নয়, তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ক্ষমতা হারানোর পর দলের ভেতরের ক্ষোভ যে সামনে আসছে, সেই ইঙ্গিতও মিলছে এই মন্তব্যে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, “আমি যেটা ভুল বলছি সেটা হচ্ছে ওঁর (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) লাইফস্টাইল। ও (অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) দলে যেভাবে, জীবনযাত্রা তৈরি করেছে, সেটা চোখে লাগার মতো এবং তাতেই মানে ওর চলাফেরা, তাতেই কিন্তু ও সবার কাছে অভিযোগের কারণ। যেখানে দিদি মাটিতে বসে চা খায়, সেখানে অভিষেক মাটিতে বসে না।” তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের কাছে একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনযাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই জায়গাতেই দলের অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শতাব্দীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি সরাসরি অভিষেকের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

দলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন শতাব্দী রায়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের খবর সামনে এলেও সেই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “যেখানে হাত দিচ্ছেন সেখানে দুর্নীতি পাচ্ছেন। যেটুকু জানা হত, সেটুকু জানানো হত। তাতে কোনও স্টেপ নেওয়া হত না কখনও।” এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হলে যে বিষয়গুলো জানানো হয়েছিল, সেগুলির কোনও ফল হয়েছিল কি না, তার উত্তরে তিনি বলেন, “না। সবসময় বলা হত ভুল বোঝাচ্ছে তোমাদের।” তাঁর অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা হলেও সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাগুলি আরও বড় আকার নিয়েছে বলেই তাঁর দাবি।

দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও এদিন প্রশ্নের মুখে তুলেছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, “নেত্রী হিসাবে এতগুলো মানুষকে জলে ফেলে দেওয়া…দিদি তো জলে ফেলে দিয়েছেন। আপনি বলবেন দিদিকেই সবাই ফেলে দিয়ে চলে গেল, দিদিও তো এতগুলো লোককে ডুবিয়ে দিল।” তাঁর মতে, যাঁরা দীর্ঘদিন দল ও নেত্রীর জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ আইনি ও রাজনৈতিক সমস্যার মুখে পড়েছেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এই যে এতগুলো লোক অ্যারেস্ট হচ্ছে, কাকে সেফ করতে পারছে? কাকে বাঁচাতে পারছে? দিদির জন্য তো লড়েছে এতগুলো লোক। সেটা তো দায় তো দিদিরও হবে।” শতাব্দীর এই মন্তব্য দলের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বড় বার্তা বহন করছে।

আরও পড়ুনঃ ‘যা বলবেন করে দেব, আগে আমায় একটু খেতে দিন…’ জাতীয় পুরস্কার পেয়েও পেটে খাবার ছিল না! মিঠুন চক্রবর্তীর সেই সংগ্রামের অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন ছেলে মিমো! জানলে চোখে আসবে জল!

অন্যদিকে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাঁকুড়ার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে তো আর রাজনীতি হয় না। একটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটা গ্রুপ থাকে, একটা কমিটি থাকে, আলোচনা করে করতে হয়। আমি যা খুশি করব, তা তো হয় না।” দলের সাংগঠনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এর জন্য একটা মোটো দরকার। বাংলার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলটা তৈরি করেছেন। বয়স হয়ে গেছে তো। অতএব দলটার রেক্টিফিকেশন না করা হলে, দলটাকে টিকিয়ে রাখা যাবে না।” অরূপের এই মন্তব্যও দলের অন্দরের অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে একের পর এক নেতার বিস্ফোরক বক্তব্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page