“মমতা ও অভিষেকের হাত কখনও ছাড়ব না… তৃণমূল মানে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা কর্মী,এই দলের সম্পদ কর্মীরা” সায়নীর জায়গায় যুব সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা অর্ণব ব্যানার্জির!

তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনে বড় পরিবর্তনের মধ্যে নতুন দায়িত্ব পেলেন টলিউড অভিনেতা অর্ণব ব্যানার্জি। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে তাঁকে যুব সভাপতির পদে আনা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্ণব জানান, দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু দিনের। তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার সঙ্গে ছিলাম৷ আমি তৃণমূল কংগ্রেস দলটাকে ভালবাসি৷ সুতরাং সেই দলে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ভাললাগবে বলাই বাহুল্য৷ আমি চেষ্টা করব ভালভাবে কাজ করার৷ সৎ ভাবে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করব৷” নতুন দায়িত্বকে তিনি সম্মানের পাশাপাশি বড় দায়িত্ব বলেও মনে করছেন। তাঁর লক্ষ্য, সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা।

বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর এই দায়িত্ব পাওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন অর্ণব। তবে তিনি আশাবাদী যে দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাঁর কথায়, “এখন অবশ্যই একটু কঠিন সময় দলের জন্য৷ কিন্তু আমার বিশ্বাস এই কঠিন সময় বেশিদিন থাকবে না। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন আমার মাথার উপর৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন৷ আমি তাঁদের দেখানো পথেই চলার চেষ্টা করব৷ তাঁদের নির্দেশ মতোই আমি যুব সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করব৷” অর্ণবের মতে, কঠিন সময়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তোলাই এখন প্রধান কাজ। সেই লক্ষ্যেই তিনি কর্মীদের নিয়ে মাঠে নামার কথা বলেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল ছেড়ে কয়েকজন নেতা অন্য দলে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অর্ণব স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের শক্তি কোনও ব্যক্তি নন, দলের কর্মীরাই আসল ভিত্তি। তিনি বলেন, “দল যখন তৈরি হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নাম দিয়েছিলেন তৃণমূল৷ তৃণমূল মানে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা কর্মীরা৷ এই দলের সম্পদ কর্মীরা৷ কোন নেতা গেল না গেল বড় বিষয় নয়৷ কর্মীরাই নেতা তৈরি করে৷ একজন নেতা গেলে মমতা ব্যানার্জি আর একজন নেতা তৈরি করবেন, যাঁকে যোগ্য মনে করবেন৷ কিন্তু কর্মীদের জোরেই দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে৷” তাঁর মতে, কর্মীদের উপর ভরসা রেখেই আগামী দিনের লড়াই লড়বে দল।

দলত্যাগের প্রসঙ্গে অর্ণব আরও বলেন, অনেকেই যে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, “প্রচুর লোক দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন একথা ভুল৷ কিছু এমপি এমএলএ হয়তো যাচ্ছেন৷ তৃণমূল দলটা মহাসাগরের মতো৷ সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আছেন, এই দল ঘুরে দাঁড়াবেই নিশ্চিত আমি৷” তিনি মনে করেন, কোনও রাজনৈতিক দলেই ওঠাপড়া থাকে। কিন্তু নেতৃত্বের উপর আস্থা থাকলে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।

আরও পড়ুনঃ “একটাই তো চটি চেটেছি…” বলেছিলেন কিছুদিন আগে! বিদ্রোহী সাংসদ সায়নী আউট, এবার তার জায়গায় যুব তৃণমূলের সভাপতি সেই ‘চাটা’ অর্ণব ব্যানার্জি! ‘চেটে চেটে শেষবেলায় এই পুরস্কার?’ পুরোনো মন্তব্য ঘিরে খোঁচা সমাজ মাধ্যমে!

টলিউড থেকে একজন অভিনেতাকে যুব সভাপতির পদে আনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে প্রশ্ন উঠেছে, তারও জবাব দিয়েছেন অর্ণব। তিনি জানান, অভিনয়ে আসার অনেক আগেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি পরে টলিউডে এসেছি৷ অনেক ছোটবেলা কলেজে পড়ার সময় থেকে ৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস দলটা আমি করি৷ তখন বাম শাসন ছিল৷ কলেজে এসএফআইকে সরাবার মূলে যে দু’একজন নেতৃত্ব দিয়েছিল আমি তাদের মধ্যে একজন৷ অভিনয় আমার পেশা৷ রাজনীতি তো কারও পেশা হতে পারেনা৷ আমার আবেগ, ভালবাসা, শ্রদ্ধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিউডের কে কী করেছে বলতে পারব না৷ তবে আমি এটুকু বলতে পারি আমি কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাত ছাড়ব না৷” এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিজের আস্থা ও অনুগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

You cannot copy content of this page