এক সময় ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর (Dance Bangla Dance) মঞ্চ কাঁপানো খুদে প্রতিযোগী হিসেবে গোটা বাংলার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন ‘দীপান্বিতা কুণ্ডু’ (Dipanwita Kundu)। সাড়ে তিন বছর বয়সেই তাঁর নাচ, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং অভিব্যক্তি দর্শকদের মন জয় করেছিল। মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর দেওয়া ‘পান্তাভাতের কুণ্ডু’ নামেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তবে এখন তাঁর জীবনের অনেকটা জুড়েই পড়াশোনা। ভবিষ্যতে চিকিৎসা বা প্যারা মেডিক্যাল ক্ষেত্রে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন, এমনটাই গতবছর জানিয়েছিলেন নিজে। তবুও নাচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে।
পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও প্রথম ভালোবাসা নাচকে ছেড়ে দেননি দীপান্বিতা। মাঝেমধ্যেই তাঁর নাচের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়। সম্প্রতি তাঁর মায়ের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি নতুন ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে লাল শাড়ি পরে, হাতে পায়ে আলতা লাগিয়ে নজরুলগীতি ‘রুম্ ঝুম্…খেজুর পাতার নূপুর বাজায়ে কে যায়’ গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই তাঁর নাচের প্রশংসা করেছেন। কারণ ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভিব্যক্তি এবং মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। কিন্তু এবার সেই অভিব্যক্তিকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে অন্যরকম সমালোচনা!
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানান ধরনের মতামত সামনে এসেছে। একাংশের দর্শকের মতে, নাচের সময় অতিরিক্ত মুখভঙ্গি এবং অভিব্যক্তির ব্যবহার গানটির আবহের সঙ্গে মানানসই হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, ছোটবেলায় যে ধরনের অভিব্যক্তি দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে, বড় হওয়ার পর একই বিষয়কে অনেকেই ভিন্নভাবে বিচার করছেন। ফলে নাচের কৌশলের পাশাপাশি অভিব্যক্তির মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় ঘরানার বা আবেগপ্রধান গানের ক্ষেত্রে কতটা সংযত থাকা উচিত, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের মধ্যে একজন লিখেছেন, “ছোট থেকেই এত চোখ মুখ বাঁকানোর অভ্যাস হয়ে গেছে…অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত, সব নাচে একরকমের এস্কপ্রেশন, নাচের কোনও মাথা মুণ্ডু নাই!” এই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, বিভিন্ন ধরনের গানের জন্য আলাদা আলাদা উপস্থাপনা এবং অভিব্যক্তি প্রয়োজন। একই ধরনের মুখভঙ্গি বারবার ব্যবহার করলে নাচের বৈচিত্র্য কমে যায়। আরও এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “রুমঝুম গানটিকে মিউট করে এই একই নাচে ‘এমন মধুর সন্ধ্যায় একা কি থাকা যায়’ গানটি দিয়ে দেখো, কোনও পার্থক্য হবে না।
আরও পড়ুনঃ একেই বলে দিদি ভক্তি! রাজ্যে পালাবদলের পর সবাই যখন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত,তখনও মমতার পাশেই অভিনেত্রী সুভদ্রা! কৃতজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে আবেগঘন বার্তা তাঁর! কী বললেন তিনি?
কোন গানের সঙ্গে কী নাচ হয় আর তার সঙ্গে কীরকম অভিব্যক্তি হয় সেটা আগে ভালো করে শেখো। তারপর এই গানগুলোতে পারফর্ম করবে। হাত পা সঞ্চালন মানেই নৃত্য নয়!” এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে বিস্তর আলোচনা। যদিও এই মতের বিরোধিতাও করেছেন অনেক অনুরাগী। তাঁদের বক্তব্য, দীপান্বিতার নাচের অন্যতম পরিচয়ই হল তাঁর শক্তিশালী অভিব্যক্তি, যা ছোটবেলা থেকেই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। দীপান্বিতা এই বিতর্ক নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে একসময়ের জনপ্রিয় খুদে নৃত্যশিল্পীর নতুন ভিডিও যে দর্শকদের মধ্যে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।






