টলিপাড়ায় তোলপাড়! অঙ্কিতা চক্রবর্তীর পর এবার সোহিনী সরকার! পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরু’দ্ধে শ্লী*লতাহানির অভিযোগে আলিপুর আদালতে নিজের বক্তব্য ও অভিযোগ জানালেন তিনি? ঠিক কী ঘটেছে অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রীর সঙ্গে?

টলিপাড়ায় পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তীর পর এ বার অভিনেত্রী সোহিনী সরকারও আইনি পথে হাঁটতে পারেন বলে সূত্রের দাবি। জানা যাচ্ছে, সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ আলিপুর আদালতে গিয়ে নিজের বক্তব্য ও অভিযোগ জানাতে পারেন সোহিনী। তবে আদালতে তিনি ঠিক কী অভিযোগ জানাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি সত্যিই কোনও মামলা বা আইনি পদক্ষেপ শুরু হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সোহিনীর সম্ভাব্য আদালতে যাওয়ার খবর ঘিরে এই মুহূর্তে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা আদালতের নথি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত ঘটনার নির্দিষ্ট বিবরণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দেবালয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে সোহিনী সরকারের পেশাগত পরিচয় অবশ্য বেশ পুরনো। ২০১৮ সালে দেবালয়ের পরিচালনায় ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সোহিনী। সেই ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তী সময়ে দেবালয়ের পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘পবিত্র পাপী’তেও অভিনয় করেন তিনি। সেই সিরিজের কাস্ট তালিকাতেও সোহিনীর নাম রয়েছে। সূত্রের দাবি, একটি পার্টিকে কেন্দ্র করেই নাকি সোহিনী ও দেবালয়ের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সূত্রপাত। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্টি থেকে বেরিয়ে তাঁরা দু’জন একই সঙ্গে একটি গাড়িতে ফিরছিলেন। সেই যাত্রাপথেই পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে সোহিনীর নিজের বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

অঙ্কিতা চক্রবর্তীর আইনজীবী প্রিয়ম দে-র দাবি, “দেবালয় ও সোহিনী একসঙ্গে বেরোন, একই গাড়িতে ফেরেন। সেই সময় দেবালয় সোহিনীর গায়ে হাত দেন এবং তাঁকে একাধিক আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর কথা বলতে থাকেন বলে অভিযোগ।” তবে এই বক্তব্যটি আইনজীবীর দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। সোহিনী নিজে আদালতে কী বলেন, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ বা আদালতের নথি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এই ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। সোহিনীর সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিক ভাবে ফের আলোচনায় এসেছে অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও দেবালয় ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক আইনি সংঘাত। সেই ঘটনাও ইতিমধ্যেই যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে টলিপাড়ায়।

চলতি বছরের মে মাসে অঙ্কিতা প্রকাশ্যে দেবালয়ের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, একটি সাফল্য উদ্‌যাপনের পার্টিতে দেবালয় তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগের পর অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে পরিচালকের কাছে আইনি নোটিস পাঠান। সেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে এফআইআর করার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে অঙ্কিতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন দেবালয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, অভিযোগগুলি তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তাঁর মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এই দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনিও আইনি পথে যাওয়ার কথা জানান এবং পরে অঙ্কিতাকে পাল্টা আইনি নোটিস পাঠানোর খবর প্রকাশ্যে আসে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অঙ্কিতার মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। তা না হলে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, অঙ্কিতা ও দেবালয়ের বিরোধ ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের আইনি অবস্থানের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সোহিনী সরকারও যদি সত্যিই আদালতের দ্বারস্থ হন, তাহলে পরিচালককে ঘিরে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে একই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা দুই অভিনেত্রীর অভিযোগ আলাদা সময়ে সামনে এলে টলিপাড়ার অন্দরেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সোহিনীর অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনও নিশ্চিত নয় এবং এখনই কোনও অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুনঃ “শিশুদের মুখের ওই এক চিলতে হাসিতেই আমার স্বাধীনতার আনন্দ!” হবু মা সোহিনী সরকারের মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ অনুরাগীরা! অনাথ আশ্রমে উপহার বিলিয়ে কাটালেন বিশেষ দিন, ভিডিও ঘিরে প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটপাড়া!

এই পরিস্থিতিতে দেবালয় ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। তাই এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারব না।” ফলে সোহিনী সত্যিই সোমবার আলিপুর আদালতে হাজির হন কি না, হলে তাঁর বক্তব্য কী হয়, কোনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয় কি না, এবং তার পরে দেবালয়ের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্কিতার সঙ্গে চলা আইনি প্রক্রিয়াও এই নতুন পরিস্থিতির কারণে ফের আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াই। আদালতে সোহিনীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার আগে তাই পুরো বিষয়টিকে অভিযোগ ও দাবির স্তরেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, সোমবারের পর এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।

You cannot copy content of this page