ফাদার্স ডে উপলক্ষে প্রয়াত পরিচালক ‘অঞ্জন চৌধুরী’কে (Anjan Choudhury) স্মরণ করে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন তাঁর মেয়ে অভিনেত্রী ‘চুমকি চৌধুরী’ (Chumki Choudhury)। বাবাকে ঘিরে ছোটবেলার নানা স্মৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং কর্মজীবনের শুরু নিয়ে কথা বলেন তিনি। চুমকির মতে, বাবা শুধুই পরিবারের অভিভাবক ছিলেন না, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসাও ছিলেন। আজও জীবনের নানা মুহূর্তে বাবার উপস্থিতি অনুভব করেন তিনি। সেই কারণেই ফাদার্স ডে তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি বিশেষ দিন নয়, বরং অনেক আবেগের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা একটি উপলক্ষ। বাবাকে মনে করেই দিনটি কাটান অভিনেত্রী। সেই সব কথাই তিনি ভাগ করে নিলেন এক সাক্ষাৎকারে।
চুমকি জানান, তাঁদের ছোটবেলায় ফাদার্স ডে নিয়ে এত বেশি উন্মাদনা ছিল না। তবুও বড় হওয়ার পর থেকে বাবার জন্য ছোট ছোট আয়োজন করতেন তিনি ও তাঁর বোন। অভিনেত্রীর কথায়, “তখন তো ফাদার্স ডের এত রমরমা ছিল না। কিন্তু একটু বড় হতেই বাবার জন্য ছোট্ট একটা কেক আনতাম। বা বাবার পছন্দের কোনও রান্না করে খাওয়াতাম। আমরা দুই বোন ছোট থেকেই বাবার খুব ভক্ত।” তিনি আরও বলেন, “অনেকের মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব বেশি হয়, বাবা রাগী বলে অনেক বাচ্চাই দূরে দূরে থাকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল একদম উল্টো। বাবাই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। সব কথা আগে এসে বাবাকেই বলতাম।” বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর এবং বন্ধুর মতো।
বাবা আজ আর তাঁদের মধ্যে নেই, কিন্তু মানসিকভাবে এখনও তাঁকে খুব কাছেই অনুভব করেন চুমকি। তিনি বলেন, “এখনও অভ্যাসটা যায়নি। বাবা আজ আমাদের মাঝে নেই। তবুও মনে কষ্ট হলে বা কোনও কথা আলোচনা করতে হলে মনে মনে বাবাকেই জানাই। এখনও মনে হয় বাবা তো আমার কাছেই আছে, সব শুনছে।” বাবার স্মৃতি আজও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। কোনও সমস্যার মুখোমুখি হলে বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আজও বাবার কথাই প্রথম মনে পড়ে বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস, বাবার আশীর্বাদ এখনও তাঁকে পথ দেখায়। এই অনুভূতিই তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি জোগায়।
নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর গল্পও তুলে ধরেন চুমকি। তিনি জানান, অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা তাঁর কখনও ছিল না। বাবার উৎসাহেই প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার জীবনটাই তো বাবার দেওয়া। আমার কেরিয়ারটাও বাবার হাত ধরেই হয়েছিল। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। বাবা ডেকে বলল হিরক জয়ন্তী ছবিতে অভিনয় করার কথা। আমি তো কোনওদিন অভিনয় করব ভাবিইনি। কিন্তু বাবা যেহেতু বলেছে তাই না করব কী করে? বাবার কথা অমান্য করার সাধ্য আমাদের কারওর ছিল না।” এরপর একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সেই সময় খ্যাতি বা সাফল্যের কথা না ভেবে শুধুমাত্র বাবার উপর ভরসা করেই এগিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান চুমকি।
আরও পড়ুনঃ যেখানে একজন শাশুড়িকেই সামলাতে হিমশিম খান অনেকে, সেখানে দুই শাশুড়ির বৌমা দেবলীনা! গৌরবের বাবা করেছিলেন দু’বার বিয়ে, একই বাড়িতে থাকেন দুই মা! কেমন সম্পর্ক তাঁদের সঙ্গে দেবলীনার?
সাক্ষাৎকারে বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গও ওঠে। তখন চুমকি বলেন, “আজ যখন অন্যান্য পরিচালকের কিছু ছবি দেখি, তখন অবচেতন মনেই ভাবি, বাবা থাকলে এই জায়গাটা একটু অন্যভাবে হয়তো তৈরি করত। অবচেতন মনেই তুলনা করি।” একইসঙ্গে পর্দায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “কী জানি আর ফেরা হবে নাকি। ছোটপর্দার জন্য যেসব চিত্রনাট্য আসে আমার কাছে, সেগুলো আমার সঙ্গে মানানসই নয়। আর বড়পর্দাতেও তেমন চরিত্র পাই না। তবে আমি সময়ের উপর ভরসা রেখেছি বরাবর। সঠিক সময়, সুযোগ এলে নিশ্চয়ই আবার কাজে ফিরব।” আপাতত ভালো চরিত্র ও সঠিক সুযোগের অপেক্ষাতেই রয়েছেন তিনি।






