চলতি বছরের শুরু থেকেই গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং তাঁর পাইলট স্বামী ‘প্রবাহ নন্দী’র (Prabaha Nandy) ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দেবলীনার ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ঘটনার পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি বারুইপুর আদালতে গিয়ে প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও আনেন দেবলীনা। তাঁর দাবি, বিয়ের পর থেকে তিনি নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি তাঁকে ছয়তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন গায়িকা। পাশাপাশি শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আদালতে যাওয়ার পরদিনই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন দেবলীনা। সেখানে তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। তিনি লেখেন, “দয়া করে কেউ পার্সোনাল অ্যাটাক করবেন না। আমি এতদিন কোনও কিছুই করিনি হসপিটাল এ থাকাকালিন বাড়ির লোক থানায় গেছিলো ওইটুকু ছাড়া কিন্তু যখন আমি আমার জিনিসপত্র নিয়ে এসছি তার পর ওরা আমার নামে মিথ্যা কথা বলছে ভুলভাল ভিডিও পোস্ট করছে। ঘটনা টা ভুল ভাবে সবাই কে জানাচ্ছে তখন আমার আর কিছু করার ছিল না।” গায়িকার বক্তব্য, পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করেছে আইনি পথে এগোতে। সেই কারণেই তিনি এতদিন নীরব থাকলেও এখন বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন।
পোস্টে দেবলীনা আরও জানান, তিনি ইচ্ছে করেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই বিষয় নিয়ে খুব বেশি কিছু লেখেননি। তাঁর কথায়, “আমি আমার পেজ থেকে যার জন্য এই সমন্ধে কিছু পোস্ট করিনি। আমার আইনজীবিরাই সবটা জানিয়েছেন আর ঠিক সময়ে কোর্ট এ সবটা প্রমাণিত হবে।” তিনি আরও লেখেন, “তার আগে দয়া করে আমাকে একটু আমার মতো থাকতে দিন আমার মা কে নিয়ে বাজে কথা বলবেন না নাহলে এত দিন শুধু ব্লক করছিলাম এবার আইনি পদক্ষেপ নেব।” এই বক্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কারণ, সমালোচকদের উদ্দেশে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় গায়িকাকে।
আরও পড়ুন: “মেসি দাদা আমাদের ছেলেরা আপনার জন্য…” পাপিয়া অধিকারীর সবিনয়ে আর্জি ঘিরে ট্রো’লের বন্যা! ‘লিওনেল মেসি পাশের পাড়ার ভাসুর নাকি যে দাদা হয়ে গেল?’ ‘বিশ্বাস মেসো অতীত, মার্কেটে এখন পায়রা মাসি!’ কটা’ক্ষ নেটিজেনদের!
নিজের পোস্টে দেবলীনা আরও উল্লেখ করেন, “এতদিন কোনও পদক্ষেপ নিয়নি তখন সবাই আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে এখন নিয়েছি তাতেও সমস্যা।” পাশাপাশি তিনি জানান, সাধারণত তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পোস্ট করেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমি প্রমোশন আর কিছু স্পেশাল মোমেন্ট ছাড়া ফেসবুক এ আর কিছু পোস্ট করিনা, করব ও না কোনদিন তাই এবার সবাই থামুন আর পুরনো ভিডিও গুলো ঠিক সময় মতো আমি ফেসবুক থেকে মুছে দেব।” এই মন্তব্যও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ভিডিও এবং তথ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনা চলছিল।
তবে এই দীর্ঘ পোস্টের থেকেও বেশি চর্চা হয় কমেন্ট বক্সে করা তাঁর একটি উত্তরের জন্য। পোস্টের নিচে এক নেটিজেন তাঁকে ‘নন্দী’ পদবি বদলে ফেলার পরামর্শ দেন। সেই মন্তব্যের জবাবে দেবলীনা স্পষ্ট করে লেখেন, “আমার পদবি নন্দী, বাবা আমার নন্দী।” এই এক লাইনের উত্তরের মাধ্যমেই তিনি একটি বড় ভুল ধারণা ভেঙে দেন। কারণ, অনেকেই মনে করেছিলেন বিয়ের পর স্বামী প্রবাহ নন্দীর পদবি নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু দেবলীনার মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যায়, ‘নন্দী’ তাঁর পৈতৃক পদবিই এবং তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনও যোগ নেই।






