অভিনয় জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ ‘রূপা গঙ্গোপাধ্যায়’ (Rupa Ganguly), বর্তমানে তিনি বিজেপি বিধায়ক। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনেও তিনি সমানভাবে পরিচিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছোট চুল রাখার কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা তুলে ধরেন। রূপার কথায়, অনেকেই মনে করেন এটি শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু বাস্তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অভিনয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং পরবর্তী সময়ের শারীরিক সমস্যার অভিজ্ঞতা।
অভিনেত্রী জানান, ২০০৩ সালে কৌশিক গাঙ্গুলীর পরিচালনায় তৈরি টেলিফিল্ম ‘উষ্ণতার জন্য’-এ তাঁকে এক পুরুষালি নারীর চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল। সেই সময় বাংলা টেলিভিশনে সমকামী দুই নারীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এমন গল্প খুব একটা দেখা যায়নি। এই টেলিফিল্মে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন চূর্ণী গাঙ্গুলী। চরিত্রের প্রয়োজনেই প্রথমে নানান ধরনের উইগ ব্যবহার করে লুক তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনওটিতেই তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত নেন নিজের লম্বা চুল কেটে ফেলবেন। যদিও প্রথমদিকে ইউনিটের অনেকেই এত বড় পরিবর্তনে রাজি ছিলেন না।
তবু তাঁর অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত হেয়ার ড্রেসার চুল ছোট করে দেন। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সেই সময় তাঁর কোমর ছোঁয়া লম্বা চুল কেটে ফেলার ঘটনায় অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমনও মন্তব্য শুনতে হয়েছিল, শুটিং শেষ হয়ে গেলে এরপর তিনি কী করবেন। তবে ছবি মুক্তির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিনেত্রীর দাবি, টেলিফিল্মে তাঁর চরিত্রটি দর্শকদের এতটাই ভালো লেগেছিল যে ছোট চুলের সেই নতুন লুকের জন্যই পরে একাধিক নতুন কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। পরবর্তীকালে এই টেলিফিল্মের মূল ভাবনা ও চিত্রনাট্য থেকেই কৌশিক গাঙ্গুলী পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণ করেন।
সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় কারণের কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, একসময় মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ব্রেন হ্যামারেজের শিকার হন। তাঁর কথায়, আজও মাথার তালুর কয়েকটি অংশে রক্ত জমাট বেঁধে থাকে। যেহেতু অস্ত্রোপচার করা হয়নি, তাই মাঝেমধ্যেই সেই জায়গায় ব্যথা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে মাথায় হাত দেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে, চিরুনি ব্যবহার করা তো আরও কঠিন। ফলে বড় চুল সামলানো তাঁর জন্য নিয়মিত যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর কয়েক বছর আগে যখন তিনি দিল্লিতে সংসদের সদস্য ছিলেন, তখন বছরের বেশিরভাগ সময় সেখানেই থাকতে হতো।
আরও পড়ুনঃ “আমার বাবার কোনওদিন স্ট্রোকই হয়নি…চা-সিগারেটের টাকাও আমার থেকে হাত পেতে নিত, অপারে’শনের পর সেবা থেকে ব’মি পরিষ্কারও করেছি আমি!” গৌরব তপাদারের একের পর এক দাবির জবাবে বি’স্ফোরক ভিডিও, প্রাক্তন অন্তরা দের! প্রমাণ সহ সামনে আনলেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আরও জানান, দিল্লির তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বিশেষ করে ভেজা চুল শুকানো, আঁচড়ানো বা প্রতিদিন পরিচর্যা করা তাঁর পক্ষে তখন অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাই বাধ্য হয়েই তিনি দীর্ঘদিন ছোট চুল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বর্তমানে তাঁকে আগের মতো নিয়মিত দিল্লিতে থাকতে হয় না। সেই কারণে এখন ধীরে ধীরে আবার চুল বড় করছেন বলেও জানান অভিনেত্রী। একটি চরিত্রের প্রয়োজনে নেওয়া সাহসী সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীকালে শারীরিক সমস্যার কারণে জীবনযাত্রায় আনা পরিবর্তন, এই দুই কারণই তাঁর ছোট চুল রাখার নেপথ্যের আসল গল্প বলে তুলে ধরেছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।






