বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঙ্গে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যেন একসূত্রে গাঁথা। দীর্ঘ সময় ধরে এই অনুষ্ঠানের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাই হঠাৎ করেই অনুষ্ঠান থেকে তাঁর সরে যাওয়ার খবর সামনে আসতেই দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবার বিস্তারিত মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। শোটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলা, ব্যক্তিগত আবেগ, বাদ পড়ার কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চ্যানেলের সিদ্ধান্ত নিয়েও জানিয়েছেন নিজের মতামত। তাঁর বক্তব্য ঘিরে এখন টেলিপাড়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
রচনা জানান, ‘দিদি নম্বর ১’ তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং নিজের পরিবারের একজন সদস্যের মতোই ছিল। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে যখন মাত্র তিন বছরের, তখন থেকেই এই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। সন্তানকে যেমন বড় করেছেন, তেমনই যত্ন নিয়ে এই শো-টিকেও গড়ে তুলেছেন। এমনও দিন গিয়েছে যখন শুটিং শেষ করে দ্রুত বাড়ি ফিরতে মেট্রোয় যাতায়াত করেছেন। আবার রাতে যাতে কেউ চিনতে না পারে, সেই কারণে বোরখা পরে বাড়ি ফিরেছেন বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন হয়ে রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে সরানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও করা হয়। উত্তরে রচনা স্পষ্ট বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক আছে বলে তাঁর মনে হয় না। তবে চ্যানেল, পরিচালক বা প্রযোজক কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাঁর জানা নেই। যদিও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষের সামনে সব সময় ভদ্রভাবে থাকা উচিত, অহংকার বা দম্ভ কখনও ভালো ফল দেয় না। নিজের ভাষা ও আচরণের প্রতিও সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, এই সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, পৃথিবীতে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়। আজ যা আছে, কাল তা বদলে যেতেই পারে।
তবে অনুষ্ঠান থেকে সরে যাওয়া নিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ অন্য জায়গায়। রচনা বলেন, একজন আসবেন, আরেকজন চলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের ইতি যদি টানা হয়, তাহলে সেটি আরও সুন্দরভাবে হওয়া উচিত ছিল। তাঁর কথায়, “আমি কখনও ভাবিনি সারা জীবন এই অনুষ্ঠান করব। কিন্তু যেভাবে পুরো বিষয়টা ঘটল, সেটা আমি একেবারেই আশা করিনি।” নতুন কেউ দায়িত্ব নিতেই পারেন, সেই বিষয়ে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ ‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য…উনি স্রেফ ঘৃ’ণার যোগ্য!’ ‘ফুটপাথের ভোটে জয়ী হয়ে, তাদের মেম্বার অফ পার্লামেন্টের অযোগ্য বলে অপমান, ফুটপাতের মানুষই একদিন ছুড়ে ফেলবে আপনাকে!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে একহাত নিলেন ঋদ্ধি সেন! ‘ফুটপাতের মেয়ে’ মন্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন কটা’ক্ষ ভাইরাল!
চ্যানেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মত জানাতে গিয়েও রচনা বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার যে সময়ে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হতো, সেই সময়টাকে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি নিজেই। তাঁর মতে, সেই সময়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সাহস হয়তো কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেননি বলেই সম্প্রচারের সময় বদলানো হয়েছে। শেষদিকে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দিদি নম্বর ১’ তাঁর জীবনের এক আলোর মতো ছিল। অনুষ্ঠান ছাড়ার সময় পুরো টিমের অনেকেই চোখের জল ফেলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, “ওরা ওভার কনফিডেন্ট। আর এই ওভার কনফিডেন্সই মানুষকে মারে।” তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিনোদন মহলে।






‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য…উনি স্রেফ ঘৃ’ণার যোগ্য!’ ‘ফুটপাথের ভোটে জয়ী হয়ে, তাদের মেম্বার অফ পার্লামেন্টের অযোগ্য বলে অপমান, ফুটপাতের মানুষই একদিন ছুড়ে ফেলবে আপনাকে!’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে একহাত নিলেন ঋদ্ধি সেন! ‘ফুটপাতের মেয়ে’ মন্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন কটা’ক্ষ ভাইরাল!