“মা-বাবা মারা গেলে সন্তান মাছ খাওয়া ছাড়ে না, তাহলে স্বামী মারা গেলে কেন ছাড়বে?” কুমকুমকে মাছ খাইয়ে কুসং’স্কারের বিরুদ্ধে সরব ঈশান! বিনোদনের নামে পরকীয়া, পারিবারিক অশা’ন্তি নয়, ইতিবাচক বার্তায় ‘কুমকুম’ মন জিতল দর্শকদের

স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘কুমকুম’ (Kumkum) শুরু থেকেই অন্য ধরনের গল্পের জন্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। আদৃত রায় এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রথমবার এই চ্যানেলের পর্দায় দেখা দিচ্ছেন। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন নবাগতা অনুষ্কা, যিনি কুমকুম চরিত্রে একজন অল্পবয়সি বিধবার জীবনসংগ্রাম তুলে ধরছেন। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে হাতে জুতো তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করা এই তরুণীর গল্প ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফেরা ঈশানের সঙ্গে কুমকুমের পরিচয় হওয়ার পর থেকেই গল্পে একের পর এক নতুন মোড় আসছে। কিছুদিন আগেই কুমকুমকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখানোর জন্য ঈশানের ভূমিকাও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো, যেখানে দেখা যাচ্ছে ঈশানের বোনের আশীর্বাদের অনুষ্ঠান চলছে। নিজের হাতে তৈরি একজোড়া জুতো উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছায় কুমকুম। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তাকে অপমানের মুখে পড়তে হয়। ঈশানের মা কটাক্ষ করে বলেন, নিজে বিধবা হয়ে তাঁর মেয়ের কপাল পোড়াতে এসেছে কুমকুম। শুধু তাই নয়, তাঁকে বাড়ির ভিতরে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয়। ঠিক সেই সময় সেখানে এসে প্রতিবাদ করে ঈশান। সে মাকে প্রশ্ন করে, আজকের যুগেও বিধবা আর সধবার নামে এমন বৈষম্য ও কুসংস্কার কেন মেনে নেওয়া হবে? এরপর সকলের সামনে কুমকুমকে সম্মানের সঙ্গে ভিতরে নিয়ে যায় সে।

প্রোমোর পরের দৃশ্যেই আরও বড় বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। ঈশান নিজের হাতে কুমকুমকে ফিশ ফ্রাই খেতে দেয়। কিন্তু মাছ দেখেই কুমকুম অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সে জানায়, বিধবা হওয়ার পর থেকে মাছ ছোঁয়াও তার কাছে অপরাধ, খাওয়া তো অনেক দূরের কথা। তখনই ঈশান এমন একটি প্রশ্ন করে, যা কুমকুমকে ভাবিয়ে তোলে। সে বলে, মা-বাবা আমাদের মাছ খাওয়া শিখিয়েছে, তাঁরা মারা গেলে কি তাঁদের সন্তান সারাজীবনের জন্য মাছ খাওয়া ছেড়ে দেয়? তাহলে শুধুমাত্র স্বামী মারা গেলে একজন মহিলাকে কেন সেই নিয়ম মানতে হবে? ঈশানের এই যুক্তি শুনে কুমকুমও নির্বাক হয়ে যায়।

প্রোমোর এই অংশটিই এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ার মতো। অনেকেই লিখছেন, বিনোদনের পাশাপাশি সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার দায়িত্বও ধারাবাহিকের রয়েছে, আর ‘কুমকুম’ সেই কাজটাই করছে। কারও মতে, শুধু পারিবারিক অশান্তি, ষড়যন্ত্র আর নেতিবাচক ঘটনা দেখিয়ে দীর্ঘদিন দর্শকদের ধরে রাখা যায় না। বরং এমন বিষয় তুলে ধরা দরকার, যা মানুষকে পুরনো কুসংস্কার নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। বিশেষ করে বিধবাদের প্রতি সমাজের দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে, তা অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ডিমের আকৃতিটা অসাধারণ, আমি তো ডিমের ভীষণ ভক্ত…” “রচনা এখন দারুণ মুখপাত্র হয়েছে, জমিয়ে দিয়েছে…ওর এত গুণ আগে জানা ছিল না!” ‘ডিম থেরাপি’ থেকে রচনার ‘আরবানায় থাকতে যোগ্যতা’, রসিকতার আড়ালে কি প্রাক্তন দলকে খোঁচা দিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী? পালাবদলের আবহে আর কাদের একহাত নিলেন অভিনেতা?

শুধু গল্প নয়, ঈশান চরিত্রটিও এখন দর্শকদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, বাংলা ধারাবাহিকে এমন নায়কের সংখ্যা আরও বাড়া উচিত, যে শুধু নায়িকার পাশে দাঁড়ায় না, অন্যায়ের বিরুদ্ধেও স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করে। আবার কেউ বলছেন, এই ধরনের ইতিবাচক বার্তাই বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কুসংস্কারকে প্রশ্ন করা, নারীর সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যুক্তির মাধ্যমে মানুষের ভাবনাকে বদলানোর চেষ্টা, এই সবকিছু মিলিয়েই ‘কুমকুম’-এর নতুন প্রোমো দর্শকদের কাছে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন অনেকেই অপেক্ষা করছেন, সম্প্রচারের পর এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো পর্দায় এর কীভাবে ফুটে ওঠে তা দেখার জন্য।

You cannot copy content of this page